স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া ও ঘরে বন্দি করে নির্যাতন
নির্যাতিত ওই গৃহবধূ
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২০ | ১১:২০ | আপডেট: ২৮ মে ২০২০ | ১৩:৩৪
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া বেলডাঙ্গা গ্রামে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় জেসমিন আরা নামে এক গৃহবধূকে অমানুষিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী আব্দুর রফিকের বিরুদ্ধে। ওই গৃহবধূর মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে, হাতমুখ বেধেঁ দুইদিন ধরে ঘরের মধ্যে বন্দি করে রাখা হয়। খবর পেয়ে ওই বাড়ি থেকে নির্যাতিত গৃহবধূকে উদ্বার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আব্দুর রফিক ও তার মাসহ পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় বুধবার বিকেলে গৃহবধূর বাবা ইসলাম হোসেন বাদী হয়ে রফিক ও তার মা রাজিয়া বিবিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ওই গৃহবধূ উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গ্রামের জাহান আলীর ছেলে আব্দুর রফিক প্রায় দেড় বছর আগে পাশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রামের ইসলাম হোসেনের মেয়ে জেসমিন আরাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই অভাবের সংসারে নানা কারণে তাদের মধ্যে কলহ বিবাদ চলে আসছিল।
চিকিৎসাধীন জেসমিন আরা জানান, তার স্বামী বিয়ের পর থেকে অসামাজিক কাজে নামিয়ে অর্থ উর্পাজনের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। বারবার তাতে অসম্মতি জানান তিনি। এ কারণে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন তাকে নির্যাতন করেন। সোমবার রাতে স্বামী আবারও তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে নির্যাতন শুরু হয়।
তিনি বলেন, প্রথমে আমার স্বামী মাথার চুল ধরে মাটিতে ফেলে কাচি দিয়ে সব চুল কেটে ন্যাড়া করে। এরপর চলে শারীরিক নির্যাতন। একপর্যায়ে স্বামী ও শাশুড়ি মিলে আমার গোপনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে দেয় । এসময় যন্ত্রনায় চিৎকার করতে লাগলে তারা আমার মুখে কাপড় গুজে দেয় এবং হাত-মুখ বেঁধে ঘরে বন্দি করে রাখে। মঙ্গলবার বিষয়টি গ্রামে জানাজানি হলে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
সাপাহার থানার ওসি আব্দুল হাই বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত নাক্কারজনক। বিষয়টি জানার পরই পুলিশ পাঠিয়ে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে প্রথমে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরে তার অভিভাবকদের থানায় ডেকে মামলা নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগির আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।