ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরকীয়া নিয়ে বিরোধে হত্যা

হাবিবুর হত্যা মামলায় ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

হাবিবুর হত্যা মামলায় ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
×

হাবিবুর রহমান সবুজ

খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০১৯ | ০৫:৩৭ | আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০১৯ | ০৫:৪০

খুলনা মহানগরীতে ইটভাটায় শ্রমিক সরবরাহকারী হাবিবুর রহমান সবুজ হত্যা মামলায় পাঁচজনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক শেখ আবু বকর সোমবার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পাঁচজন সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।  

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হচ্ছেন-সরদার আসাদুজ্জামান ওরফে আরিফ, অনুপম, খলিলুর রহমান, গাজী আবদুল হালিম ও এ কে এম মোস্তফা চৌধুরী মামুন। এদের মধ্যে মোস্তফা মামুন পলাতক রয়েছেন। অন্যরা গ্রেফতারের পর থেকে কারাগারে রয়েছেন। মামলার চার্জশিটে মোট ৪৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।  

নিহত হাবিবুর সাতক্ষীরা সদরের উমরা এলাকার আবদুল হামিদ সরদারের ছেলে। তিনি সাতক্ষীরার একটি ইটভাটায় শ্রমিক সরবরাহ করতেন।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মার্চ সকালে নগরীর শের-এ বাংলা রোড থেকে পলিথিনে মোড়ানো হাবিবুরের মরদেহের একটি অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে দুপুরে ফারাজীপাড়া রোডে ড্রেনের পাশ থেকে দুটি ব্যাগে থাকা মাথা ও দুই হাতসহ ১২ খণ্ড উদ্ধার করা হয়। 

এ ঘটনায় নিহতের ভগ্নিপতি গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে গত ৯ মার্চ খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৬) সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মার্চ র‌্যাব সদস্যরা নগরীর ফুলবাড়িগেট এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সরদার আসাদুজ্জামান ওরফে আরিফকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নগরীর ৩৪ নম্বর ফারাজীপাড়া লেনের হাসনাত মঞ্জিলে তল্লাশি চালানো হয়। প্রায় ৩ মাস ধরে এই বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন আসাদুজ্জামান।

র‌্যাব জানায়, আসাদুজ্জামানের ঘরের খাটের নিচ থেকে পলিথিনে মোড়ানো নিহত হাবিবুরের কাটা পা ও বাথরুমে বালতির ভেতর থেকে পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও দা উদ্ধার করা হয়।

নিহত হাবিবুরের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল আসাদুজ্জামানের ঘরে পাওয়া যায়। র‌্যাবের আরেকটি টিম বটিয়াঘাটা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অনুপম মহলদারকে আটক করে। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত খুলনা থানা থেকে পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, তারা গত এপ্রিল মাসে হত্যাকাণ্ডে জড়িত খলিলুর রহমান ও গাজী আবদুল হালিমকে আটক করে। 

সূত্রটি জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগে নিহত হাবিবুর ও পলাতক আসামি এ কে এম মোস্তফা চৌধুরী মামুন পৃথক মামলায় কারাগারে ছিলেন। কারাগারে তাদের পরিচয় হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে হাবিবুর কারাগার থেকে জামিনে বের হন। হাবিবুর জেল থেকে বের হওয়ার সময় মোস্তফা তাকে কারামুক্ত করতে সহযোগিতার অনুরোধ জানান এবং তার স্ত্রী রিক্তার মোবাইল নম্বর দেন। কিন্তু হাবিবুর কোনো সহযোগিতা করেননি। এমনকি মোস্তফার স্ত্রী রিক্তার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এছাড়া মোস্তফার বোনের সঙ্গেও হাবিবুর পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

মোস্তফা কারাগার থেকে বেরিয়ে বিষয়টি জানতে পেরে হাবিবুরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তার অনুরোধে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে আরও চারজন হাবিবুরকে হত্যায় অংশ নেয়। ওই চারজনের সঙ্গেও মোস্তফার পরিচয় কারাগারে থাকাকালীন। 

গত ৬ মার্চ রাতে ফারাজীপাড়া এলাকায় আসাদের বাসায় হাবিবুরকে ডেকে চেতনানাশক ওষুধ মেশানো মিষ্টি খাওয়ানো হয়। হাবিবুর অচেতন হয়ে পড়লে পাঁচজন মিলে তাকে হত্যা করে এবং এরপর লাশ ১২ টুকরো করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র পরিদর্শক শেখ আবু বকর সমকালকে বলেন, পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া পাঁচজনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মূল আসামি মোস্তফা মামুন এখনও পলাতক। তিনি ভারতে চলে গেছেন বলে তথ্য আছে। 

আরও পড়ুন

×