রৌমারীতে পাকা ধান নষ্ট করছে ভারতীয় বন্য হাতির দল
কুড়িগ্রাম ও রৌমারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২০ | ০৪:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলার কালাইচর সীমান্ত এলাকার পাহাড় থেকে নেমে আসা একাধিক বন্য হাতির দলের তাণ্ডবে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সদর ও যাদুরচর ইউনিয়নের ৫টি সীমান্ত গ্রামের জনজীবন।
পাহাড় থেকে হাতির দল নেমে আসলেই কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে দিচ্ছে ভারতের বিএসএফ। সেই গেট দিয়ে বন্য হাতির দল ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। শুধু রাতে নয়- দিনের বেলাতেও আসছে। চষে বেড়াচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। চলে যাচ্ছে-আবার আসছে। তছনছ করছে পাকা ধান ক্ষেত। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এ অবস্থা চলছে।
মঙ্গলবার দিনের বেলায় ২৬ টি হাতি রৌমারী সদর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ী গ্রামে অবস্থান করছিল বলে জানিয়েছেন এই গ্রামের অধিবাসী ও সাবেক এমপি মো. রুহুল আমিন।
রৌমারী সদর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী ও চুলিয়ারচর এবং যাদুরচর ইউনিয়নের পাহাড়তলী ব্লকের দক্ষিণ আলগারচর, খেওয়ারচর, বকবান্ধা, ঝাউবাড়ী ও বড়াইবাড়ী-এই ৫ গ্রামের হেক্টরের পর হেক্টর পাকা ধান ক্ষেত তছনছ করছে বন্য হাতির দল।
বড়াইবাড়ী গ্রামের কৃষক নাসির উদ্দিন (৪০) জানান, বন্য হাতির দল তার আড়াই বিঘা পাকা ধান ক্ষেত তছনছ করেছে। একইভাবে দক্ষিণ আলগারচর গ্রামের কৃষক হায়দার আলী (৪৫) এর ২ একর এবং খেওয়ারচরের এমদাদুল হকের ৫ বিঘা ধান ক্ষেত তছনছ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার শাহরিয়ার রহমান জানান, সীমান্তবর্তী ওই ৩ ব্লকে এখনও ২৫০ হেক্টরের মতো জমির ধান কাটা বাকি। এর মধ্যে বন্য হাতির দল এ পর্যন্ত ৪০ জন কৃষকের ২৫ হেক্টরের মতো পাকা ধান ক্ষেত নষ্ট করেছে। এ অবস্থায় হাতির দল সরে যাওয়ার সাথে সাথে ধান কেটে নিচ্ছেন কৃষকরা।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান বলেন, সীমান্তের প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে হাতির দল বিচরণ করছে। সন্ধ্যায় এক দল ঢুকছে। সকালে চলে যাচ্ছে। আবার সকালে আসছে আরেক দল। বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে দেওয়ায় হাতির দলগুলো একের পর এক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে ফসল নষ্ট করছে।
তিনি আরও বলেন, রাতের বেলা চোখে টর্চ লাইটের আলো ফেলে হাতির দলকে খেদানোর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এজন্য পর্যাপ্ত টর্চ লাইট সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেনারেটর দিয়ে বৈদ্যুতিক ফেন্সিংয়ের ব্যবস্থা করা যায় কিনা এ বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।