সেতু ভেঙে পড়ায় রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বন্ধ
ছবি-সংগৃহীত
রাঙামাটি অফিস
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ১৬:৩২ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ | ১৬:৪৮
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের শিলক সেতু ধসে পড়েছে। এতে দুই জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া এলাকার এই সেতুটি ধসে পড়ে। দুই পাশে আটকা পড়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এই সেতুর অবস্থান রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় হলেও এটি বান্দরবান সড়ক বিভাগের আওতাধীন। সেতু ভেঙে যাওয়ায় কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষেরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বান্দরবান থেকে যাওয়ার পথে বালাঘাটা ও স্বর্ণমন্দির এলাকায় সড়ক ও সেতু পানিতে ডুবে থাকার কারণে আমাদের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছে না। পানি কমলে দ্রুত বেইলি সেতু সংযোগ দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, চট্টগ্রাম জেলার প্রশাসনিক এলাকায় অবস্থিত শিলক নদীর উপর নির্মিত শিলক সেতুটি পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেছে। তবে সেতুটি বান্দরবান সড়ক বিভাগের আওতাধীন। বান্দরবান সড়ক বিভাগের সাথে আলোচনা করে জানতে পেরেছি সেখানে বেইলি সেতু স্থাপন করতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগতে পারে।

অন্যদিকে কর্ণফুলী নদীর জোয়ার ভাটা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাটে ফেরি চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, ভারী বৃষ্টিপাতে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি উপজেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা দেখা দেয়। শনিবার বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এ ইউনিয়নে বানের পানিতে প্রায় ২০টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাইখ্যং নদীর স্রোতের কারণে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
বন্যায় ফারুয়া বাজার ছাড়াও তক্তানালা, ওড়াছড়ি, যমুনা ছড়ি, যামু ছড়া, শুক্কর ছড়ি, চাইন্দা, আলেচং, রোয়াপড়া ছড়া, এগুজ্যা ছড়ি, ঝাংবিল, ফারুয়া বাজার, উলুছড়ি, তাড়াছড়ি, চাইন্দা পাড়া, গোয়াইন ছড়ি পাড়া, রোয়াপাড়া ছড়া,আকাটা ছড়া, ফঁ ছড়া, চংড়াছড়িসহ বেশকিছু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া রাজাস্থলী-বিলাইছড়ি সীমান্ত সড়ক উদয়চর এলাকায় বড় ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা ও বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হারুন জানান, শুক্রবার রাতে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় পুরো বাজার একেবারে ডুবে গেছে। তাই প্রতিবছর বন্যা বা পাহাড়ি ঢলে বাজারটি ডুবে তলিয়ে যায়।
ফারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ তঞ্চঙ্গ্যা জানান, ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে বিদ্যালয়ের নিচতলা ডুবে রয়েছে। পাঠদানে চরম অসুবিধা হচ্ছে।
বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন জানান, তীব্র স্রোতের কারণে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। স্রোত কমার সঙ্গে সঙ্গে ত্রাণ পৌঁছানো হবে।
তিনি আরো জানান, ফারুয়া ইউনিয়নে ১৪টি গ্রাম ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ক্ষতি হয়েছে। ইউনিয়নের ১১ হাজারসহ পুরো উপজেলায় ২৫ হাজার মানুষ পানি বন্ধ হয়ে পড়েছেন।
- বিষয় :
- ভারী বর্ষণ
- চট্টগ্রাম
- রাঙ্গুনিয়া
- রাঙামাটি
- বান্দরবান