সিলেটে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ-গুলি, আহত অর্ধশত
সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ- সমকাল
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২০ | ০৭:১০ | আপডেট: ০২ জুন ২০২০ | ০৮:০৭
সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় পরিবহন শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, গোলাগুলি, গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে মঙ্গলবার দুই দফার এই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অর্ধশত মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র্যাব-পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।
সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিকের বিরুদ্ধে প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তিনি বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে কদমতলীর বাস টার্মিনাল সংলগ্ন নগরীর বাবনার পয়েন্টে ফেডারেশনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।
এ ঘটনার জেরে বিকেলে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ফলিক ও তার বিরোধী বলয়ের শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সময় উভয় পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি বাস ও এনা পরিবহনের টিকেট কাউন্টার ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
পরে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে পরিবহন শ্রমিকদের দুইপক্ষে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষ হয়। এসময় উভয় পক্ষের আরও ৮-১০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৩০ রাউন্ড ফাকা গুলি ছোড়ে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল।
এ ব্যাপারে মিতালী শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মিলাদ আহমদ রিয়াদ অভিযোগ করে বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের প্রায় আড়াই কোটি টাকা থাকার কথা। কিন্তু সেলিম আহমদ ফলিক হিসাব দিয়েছেন মাত্র ৪১ লাখ টাকার। বাকি ২ কোটি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের পুরো টাকার হিসাব না দিলে তাকে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
অভিযোগ, করোনা পরিস্থিতিতে ঈদের আগে কল্যাণ তহবিল থেকে শ্রমিকদের উপহার দেওয়ার দাবি উঠলেও ফলিক তা মানেননি। এমন পরিস্থিতিতে ফলিকের অনুসারীরা দুপুরের পর সমবেত হলে উভয় বিকেলে তারা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় সংষর্ঘে জড়িয়ে পড়েন।
এ ব্যাপারে সেলিম আহমদ ফলিকের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল জানিয়েছে, পরিবহণ শ্রমিকদের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এছাড়া র্যাবও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। বাস টার্মিনাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।