ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা
হবিগঞ্জে সাংবাদিক সুশান্তের জামিন আবেদন নামঞ্জুর
প্রতীকী ছবি
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২০ | ০৭:৩০ | আপডেট: ০২ জুন ২০২০ | ০৮:৩০
হবিগঞ্জে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারান্তরীণ স্থানীয় দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক ও আমার এমপি ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা সুশান্ত দাস গুপ্তের জামিন আবেদন আবারও নামঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ আমজাদ হোসেন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এরআগে গত ২৭ মে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সাংবাদিক সুশান্তের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়। গত ২১ মে ভোরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতারের পর থেকে কারাগারে আছেন সাংবাদিক সুশান্ত।
মঙ্গলবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন শুনানির সময় বাদি পক্ষে ছিলেন হবিগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক চৌধুরী, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থসহ প্রায় ২০ আইনজীবী। অন্যদিকে বিবাদি সাংবাদিকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহিত আহমেদ চৌধুরী, আব্দুল হাই ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া। বিবাদি পক্ষের অ্যাডভোকেট মোহিত আহমেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, তারা উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন করবেন।
গত ২০ মে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পদক সায়েদুজ্জামান জাহির হবিগঞ্জ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সুশান্ত দাশ গুপ্ত ছাড়াও দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক নুরুজ্জামান মানিক, বার্তা সম্পাদক রায়হান উদ্দিন সুমন ও প্রতিবেদক তারেক হাবিবের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এতে তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু জাহিরের বিরুদ্ধে দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়ে মানহানি করা হয়েছে।
একজন জনপ্রতিনিধির হয়ে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আরেক সাংবাদিক মামলা করায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সংসদ সদস্য আবু জাহির হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য হওয়ায় তার হয়ে মামলা করেছেন বলে দাবি করেন সায়েদুজ্জামান জাহির।
এদিকে আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার ডিক্লারেশন (পত্রিকা প্রকাশের সরকারি অনুমতি) বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। সচেতন নাগরিক সমাজ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ পৃথকভাবে একই দাবি জানিয়েছে। সাংবাদিক সুশান্তের পক্ষ নেওয়ায় সাংবাদিক প্রবীর শিকদারের শাস্তিও দাবি করে এসব সংগঠন।
এদিকে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে সভা ও সংখ্যালঘুদের স্বার্থ জড়িত নয় এমন বিচারাধীন বিষয়ে জড়িত হওয়ায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও পুজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি হবিগঞ্জ শাখার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে সাময়িক বহিষ্কার করেছে। সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্টের অভিযোগের বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে সুষ্ঠু লিখিত জবাব না দিলে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন সুশান্ত দাশ গুপ্তের সম্পাদনায় দৈনিক আমার হবিগঞ্জ প্রকাশিত হয়। এরপর পত্রিকার কয়েকটি সংখ্যায় করোনার সময়ে ত্রাণের চাল আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই চেয়ারম্যান-মেম্বাররা কার হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন এবং একজন ছাত্রলীগ নেতার বিভিন্ন অপকর্ম বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় মামলা হয়েছে বলে দাবি করেছে আমার হবিগঞ্জ পত্রিকা কর্তৃপক্ষ।
সাংবাদিকের পাশাপাশি ব্লগার হিসেবে পরিচিত সুশান্ত দাস গুপ্ত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক।