মোল্লাবাড়ির এতিমখানা-কবরস্থানে মিলল ২৮ সাপ
উদ্ধারকৃত সাপ- সমকাল
আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০১৯ | ০৯:২৩ | আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০১৯ | ০৯:৫৪
আশুগঞ্জের আড়াইসিধা গ্রাম থেকে প্রায় সাড়ে ছয় হাত লম্বা দাঁড়াশ সাপ, চারটি বড় গোখরা ও ২৩টি বিভিন্ন প্রজাতির বিষধর সাপের বাচ্চা উদ্ধার করেছেন কালাম নামে এক সাপুড়ে।
সোমবার গ্রামের মোল্লাবাড়ির মসজিদ, এতিমখানা ও কবরস্থান এলাকা থেকে এসব সাপ উদ্ধার করা হয়। সাপ ধরা দেখতে শতাধিক মানুষ জড়ো হয়। ২০১৬ সালেও উপজেলা পরিষদ ভবনসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ছয়টি বড় সাপসহ ৩০টি সাপের বাচ্চা উদ্ধার করা হয়েছিল। এদিকে উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামেও সাপের আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সাপুড়ে ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের মতে, খাদ্য ও বাসস্থানের সংকট দেখা দেওয়ায় এসব সাপ বিভিন্ন বাসাবাড়ির আশপাশে অবস্থান করছে। স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন সময় আড়াইসিধা গ্রামের মোল্লাবাড়ির কবরস্থান, মসজিদ ও এতিমখানা এলাকায় সাপ ও সাপের বাচ্চা দেখা যায়। মাদ্রাসার ছেলেরা ও স্থানীয় লোকজন লাঠিপেটা করে বিভিন্ন সময় অন্তত ১০-১৫টি সাপের বাচ্চা মেরেছে। তবে প্রায়ই সাপ দেখা যাওয়ায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। বিষয়টি মাদ্রাসা ও মসজিদ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে তারা কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কালাম নামে সাপুড়ের শরণাপন্ন হয়। গতকাল সকালে সাপুড়ে নির্ধারিত এলাকায় সকাল ৯টা থেকে সাপ ধরার অভিযান শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ২৮টি সাপ ধরেন।
মোল্লাবাড়ির আলাউদ্দিন খন্দকার বলেন, কিছুদিন ধরে মসজিদ, এতিমখানা ও কবরস্থান এলাকায় এবং আমার ঘরের আশপাশে সাপ দেখতে পাই। এরপর থেকে সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাতে চলাচল করতে গেলে ভয় হয়। এ অবস্থায় এক সাপুড়ের সঙ্গে কথা বলে তাকে নিয়ে আসি।
সাপুড়ে কালাম জানান, উদ্ধার হওয়া সাপগুলোর মধ্যে কালি ফানুস, দাঁড়াশ ও গোখরা রয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সার্জন নুরজাহান বেগম বলেন, উচ্ছিষ্ট খাবারসহ ইঁদুর, ব্যাঙ থাকায় বিভিন্ন ঘরবাড়ির কোনায় এবং পরিত্যক্ত স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে সাপ।
- বিষয় :
- বিষধর সাপ উদ্ধার
- আশুগঞ্জ