ঘুষ কেলেঙ্কারি: চার দফা দাবিতে উত্তাল পাবনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
ছবি: সমকাল
পাবনা অফিস
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০১৯ | ০৯:৩৯
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ঘুষ কেলেঙ্কারীর বিষয়ে তদন্তসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে রাখেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি না মানলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের অন্য দাবি তিনটি হলো- বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. রোস্তম আলীর ঘুষ কেলেঙ্কারি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগ এবং উপাচার্যকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান।
সম্প্রতি আট লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক প্রার্থীকে নিয়োগ না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে উপাচার্যের বিরুদ্ধে। ঘুষ ফেরত চেয়ে ওই প্রার্থীর সঙ্গে উপাচার্যের কথোপকথনের অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার মুখে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে প্রশাসন। ভিসির ঘুষ গ্রহনের অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক যথাক্রমে অর্থনীতি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ইয়াহিয়া ব্যাপারী আকাশ, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের প্রভাষক কমরুল হাসান কনক এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক কামাল হোসেন তাদের ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে স্ট্যাটাস দেন। এ কারণে তাদের শোকজ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ক্যাম্পাস চত্বর প্রদক্ষিণ করে তারা। পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। তবে দুপুর একটার পর থেকে শান্ত রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. প্রীতম কুমার দাস বলেন, আমার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তারা কোনো লিখিত দাবি জানায়নি। লিখিত পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করবো। আর যে শিক্ষকদের শোকজ করা হয়েছে, তারা জবাব দিলেই বিষয়টি সমাধান হয়ে যায়। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা কী আমরা বুঝতে পারছি না।
এ প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হলে প্রভাষক কমরুল হাসান সমকাল'কে বলেন, উপাচার্যকে নিয়ে কোনো মানহানিকর মন্তব্য করা হয়নি। ঘটনার দিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠনের 'ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বংলাদেশ' ফেসবুক গ্রুপে উপাচার্যর সঙ্গে এক চাকরি প্রার্থীর কথোপকথনের একটি অডিও প্রকাশ করা হয়েছিল। এর নিচে শুধু মন্তব্য করেছিলাম- 'এখন কী হবে?' অধ্যাপক কামাল হোসেনও এ প্রসঙ্গে একই ধরনের কথা বলেন।
পরীক্ষা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে উপাচার্য প্রফেসর ড. এম রোস্তম আলী সাংবাদিকদের বলেন, লিখিত পরীক্ষায় নির্বাচিত ৬ জন প্রার্থীর কেউ মৌখিক পরীক্ষায় চাকরির জন্য সন্তোষজনক ছিলেন না। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বাতিল করা হয়েছে। নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে আবার প্রক্রিয়াটি করা হবে।