ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জেগে উঠা নতুন ভূমির মালিকানা পেতে সন্দ্বীপে মানববন্ধন

জেগে উঠা নতুন ভূমির মালিকানা পেতে সন্দ্বীপে মানববন্ধন
×

মানববন্ধনে বক্তারা- সমকাল

চট্টগ্রাম ব্যুরো ও সন্দ্বীপ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০১৯ | ১১:০৯

সাগরে জেগে উঠা নতুন ভূমির মালিকানা পেতে সন্দ্বীপে মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। সোমবার বিকেলে এ মানববন্ধনে শত শত মানুষ অংশ নেয়। 

সাগরগর্ভে হারিয়ে যাওয়া ভূমিতে বাপদাদার ভিটে ছিল দাবি করেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা। এ সময় বক্তারা বলেন, তারা বলেন, নদী ভাঙনের কারণে ৬০ মৌজার সন্দ্বীপ এখন আছে ৩৮ মৌজায়। ভাসানচরসহ জেগে উঠা নতুন ভূমি সন্দ্বীপেরই আদিস্ত্মান। অথচ এটি হাতিয়া উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করে প্রশাসনিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। প্রকৃত ভূমিহীনদের দিয়ারা জরিপের মাধ্যমে মালিকানা বুঝিয়ে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বানও জানায় বক্তারা। 

সম্মিলিত সন্দ্বীপ অধিকার আন্দোলনের আয়োজনে সোমবার এনাম নাহার মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধাকালীন কমান্ডার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সন্দ্বীপের ৬০ মৌজার সীমানা নির্ধারণ আপামর জনসাধারনের প্রাণের দাবী। ৬০ মৌজা নির্ধারণ হলে ভাসানচরসহ জেগে উঠা ভূমি সন্দীপ ফিরে পাবে। আমরা ৬০ মৌজার দিয়ারা জরিপ চাই। ৬০ মৌজার মালিকানা নির্ধারণে রিট মামলা করা মনিুল হুদা বাবন বলেন, ৬০ মৌজা নির্ধারণের বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে। অথচ এ মামলা মিমাংসা হওয়ার আগেই ভাসনচরকে নোয়াখালীর হাতিয়ার থানা হিসেবে ঘোষণা করা অবৈধ ও বেআইনি। ভাসানচরকে থানা ঘোষণা করা হয়েছে, আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুল আবেদন ভূমি আইনের নীতিমালার মাধ্যমে সন্দ্বীপে ৬০ মৌজার সীমানা নির্ধারণ করে দিন।

সম্মিলিত সন্দ্বীপ অধিকার আন্দোলনের সদস্য সচিব সাংবাদিক অপু ইব্রাহিমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সন্দী অধিকার আন্দোলনের আহবায়ক মো. হাসানুজ্জামান সন্দ্বীপি, উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রান ও সমাজকল্যান সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সফিকুল মাওলা, সন্দ্বীপ প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল রায় স্বাধীন, মুছাপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি দিদারুল আলম, সমাজ কর্মী আনোয়ার হোসেন, ভোরের পাখি সাহিত্য মেলার সভাপতি ইসমাইল হোসেন মনি,নব জাগৃতি সংঘের সাধারন সম্পাদক আবদুর রহমান সাগরসহ প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারানো দ্বীপের মানুষের হারানো ভূমি ফিরিয়ে দিতে তৎপর নেই প্রশাসনের লোকজন। উল্টো সরকারের স্থানীয় প্রতিনিধি বিভাগীয় কমিশনার চট্টগ্রাম, জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম/নোয়াখালী বিতর্কিত সিদ্ধান্তে চট্টগ্রাম জেলার সন্‌দ্বীপ উপজেলার উড়ির চর ইউনিয়নের চর এলাহি, চর বালুয়ার বিশাল অংশ, জাহাজ্জারচর, ভাসানচর সহ প্রায় লক্ষ একর ভূমি নোয়াখালী জেলার সাথে সংযুক্ত করে। সরকারের এই গণবিরম্নধী সিদ্ধান্ত্মের প্রতিকার চেয়ে দ্বীপের মানুষ মানববন্ধন, মিছিল মিটিং, স্মারকলিপি প্রদান করে যখন কোন প্রতিকার পাচ্ছিলো না তখন আদালতের শরণাপন্ন হন। ২০১৬ সালের ২ মার্চ ভূমিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রনালয়ের অনুষ্ঠিত সভায় বিভাগীয় কমিশনার চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম এবং নোয়াখালীর জেলাপ্রশাসকদ্বয় কে নির্দেশ দেন ১৯১৩--১৯১৬ সালের প্রস্তুতকৃত সি,এস ম্যাপের উপর ভিত্তি করে দুই মাসের মধ্যে জিপিএস মান নির্ণয় ও কিস্ত্মোয়ার (ডাটা) সংগ্রহ করে জেলার সীমানা নির্ধারণ করতে বলা হয়। ২০১৬ সালের মন্ত্রানালয়ের সিদ্ধান্ত্ম বাস্ত্মবায়ন না হওয়াতে গত ২৭ মে ২০১৮ সালে দিয়ারা জরীপের জন্য মহামান্য হাইকোর্টের শরানাপন্ন হয় দ্বীপবাসী। হাইকোর্ট মন্ত্রনালয়সহ সংশ্লিষ্টদের দুই মাসের সময় বেধে দিলেও তারা মহামান্য হাইকোর্ট ও মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত্মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক বেআইনি কাজ করে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি ভাসানচরকে নোয়াখালীর থানা ঘোষণা করা হয়েছে। থানা ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও জেগে উঠা ভূমির মালিকানা নিজেদের দাবি করছেন সন্দ্বীপবাসী। অনেকদিন ধরে এই নিয়ে আন্দোলনও করছে তারা।

মানববন্ধনে বলা হয়, বর্তমান ভাসানচর সন্‌দ্বীপের সাবেক ন্যায়মস্ত্মির অংশ হিসেবে সন্দ্বীপ রেঞ্জের আওতায় বনায়ন করা হয়। ২০১৪ সালের ৬ জুন ন্যায়ামস্ত্মি সন্দ্বীপ মৌজায় জেগে উঠা চর ভূমির সাত হাজার একর জমি বনায়নের জন্য উপকূলীয় বন বিভাগের পক্ষে ৪ ও ৬ ধারার গেজেট প্রকাশ করা হয়। ওই গেজেট প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে উক্ত জমির সীমানা বা স্বত্ত্ব ঘোষণার ব্যাপারে কোন পক্ষ হতে কোন দাবী দাখিল করেনি। রেঞ্জ কর্মকর্তারা সন্দ্বীপের বিগত ১০ বছর ধরে ন্যায়ামস্ত্মি চরে (ভাসানচর) বৃক্ষরোপন করে আসছে।

 সর্বশেষ ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দফায় এক হাজার ৫০ একর জমিতে ম্যানগ্রোভ বনায়ন করা হয়। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে এ ভাসানচর হাতিয়ার।

আরও পড়ুন

×