ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেশি ক্ষতিপূরণের আশায় উঠছে অবৈধ স্থাপনা

বেশি ক্ষতিপূরণের আশায় উঠছে অবৈধ স্থাপনা
×

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর বাড়ৈচা এলাকায় গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা- সমকাল

নূরুল ইসলাম, নরসিংদী

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০১৯ | ১৭:১৮ | আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০১৯ | ১৭:৩৯

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (একনেক) অনুমোদন হয় গত বছর। এ খবর স্থানীয় মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার পর জমি অধিগ্রহণের সময় অধিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় মহাসড়কের পাশে যত্রতত্র নির্মাণ করা হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা। নরসিংদীতে এ মহাসড়কের প্রায় ৫৪ কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন হাটাবাজারের পাশে খুবই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে এসব স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। জমির মালিকদের সঙ্গে আঁতাত করে অনৈতিক এসব কাজ করছে দালাল চক্র। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্চার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্প অনুমোদনের পর প্রথম ধাপে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করা হয়। জমি অধিগ্রহণের জন্য নরসিংদী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসন এর যথার্থতা যাচাই-বাছাই করে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রায় ৫৪ কিলোমিটার সড়কের পাশে নির্মিত অবকাঠামোসহ সব কিছুর ভিডিও ফুটেজও সংগ্রহ করে। তারপরও দালাল চক্র নিরীহ জমির মালিকদের ফুসলিয়ে অধিক সুবিধা আদায়ের জন্য নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করছে। মহাসড়ক আইন অনুযায়ী সড়কের উভয় পাশের ১০ মিটার দূরত্বের পর স্থাপনা তৈরির নিয়ম রয়েছে। তবে তা মানছে না দালাল চক্র।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের সময় সরকার থেকে বাড়তি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় মহাসড়ক ঘেঁষে উভয় পাশে গড়ে তোলা হয়েছে দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। এসবের মধ্যে রয়েছে- বাড়িঘর, মার্কেট ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে স্থাপনা। চার-পাঁচ মাস ধরে চলছে বহুতল এসব অবৈধ স্থাপনা তৈরির কাজ। স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার পরও চলমান রয়েছে বেশকিছু ভবন তৈরির কাজ। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ীসহ একাধিক প্রভাবশালী চক্র এসব স্থাপনা তৈরিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষাভাবে জড়িত বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাতারাতি গড়ে ওঠা এসব স্থাপনায় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনুমোদনহীন এসব স্থাপনা তৈরির ফলে সড়ক প্রশস্তকরণের জমি অধিগ্রহণের সময় গচ্চা যেতে পারে ক্ষতিপূরণ বাবদ সরকারের অতিরিক্ত অর্থ।

সরকারের এই অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কৌশলগুলো জমির মালিকরা না জানলেও এসব চক্র তাদের সঙ্গে কমিশনের চুক্তিতে স্থাপনা গড়ে তুলছে। নিয়ম অনুযায়ী পৌরসভা, ইউনিয়ন অথবা উপজেলা পরিষদ থেকে বাড়িঘর বা ভবন তৈরির জন্য অনুমোদন লাগে। তবে এসব ভবন অনুমোদন ছাড়াই নির্মিত হচ্ছে। এতে সংশ্নিষ্ট প্রশাসনের লোকজনও জড়িত বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। সরকারি অর্থ বাঁচাতে এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বারৈচা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশেই একটি ছয়তলা ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ ভবনটির মালিক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সররাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন স্বপন। তার দাবি, অধিগ্রহণ বাবদ বেশি সুবিধা নেওয়ার আশায় তিনি ভবন নির্মাণ করছেন না। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৪৪ শতাংশ জমির ওপর ভবনটির নির্মাণ কাজ চলছে এবং তার এক ভাই অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত, আরেক ভাই জাপান ও কোরিয়ায় কর্মরত ছিলেন। ফলে তাদের নিজস্ব অর্থায়নে এ নির্মাণ কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, সরকার আমার জমি অধিগ্রহণ না করলেই লাভবান থাকব।

শিবপুর উপজেলার চৈতন্যা এলাকায় একটি ভবনের নির্মাণ কাজে নিয়োজিত শফিকুল ইসলাম নামে শ্রমিক জানান, তিনতলা এই ভবনটির মালিক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ খানের ছেলে তাপসের স্ত্রী। চেয়ারম্যানের ছেলে এটি তদারকি করছেন। কারখানা গড়ে তোলার জন্য ভবনটি তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান এই শ্রমিক।

এ ব্যাপারে নরসিংদী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার বলেন, সড়কের পাশের আগের অবস্থার ভিডিও ফুটেজ প্রকল্প পরিচালক দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। চলমান এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে ১৬৪টির মালিককে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। এ ছাড়া এসব স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করতে সংশ্নিষ্ট উপজেলা ও পৌর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। মহাসড়ক আইনের শর্ত উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি টানিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন বলেন, আমরা লোকজন পাঠিয়ে একটি ভিডিও ফুটেজসহ প্রতিবেদন দাখিল করেছি। এ ছাড়া মাসিক উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় অবৈধ ভবনগুলো অপসারণে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

আরও পড়ুন

×