ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিখোঁজ যুবলীগ নেতার লাশ উদ্ধার

নিখোঁজ যুবলীগ নেতার লাশ উদ্ধার
×

রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০১৯ | ০৫:০১

ঝালকাঠির রাজাপুরে মৎস্য বিভাগ ও পুলিশের ইলিশ রক্ষা অভিযানে ধস্তাধস্তি ও মারধরে নিখোঁজের অভিযোগ ওঠার পরদিন বাখেরগঞ্জ উপজেলা যুবলীগ নেতা মজিবুর রহমান মৃধার লাশ নদী থেকে উদ্ধার করেছে স্বজনরা। 

মঙ্গলবার সকালে পালট ও নিয়ামতি এলাকার বিষখালির মাঝ নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। 

জানা গেছে, সোমবার দুপুরে রাজাপুর উপজেলা মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী আরিফ ও রাজাপুর থানার এএসআই শহীদ (২) এবং রাজাপুর উপজেলা মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী আব্দুল বারেক ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে দুটি টিমে ট্রলারে বিষখালি নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালানো হয়। পরে পালট ও নিয়ামতি এলাকার মাঝ নদীতে ইলিশ শিকারে নামা যুবলীগ নেতা মজিবুর রহমান মৃধাসহ কয়েকজনকে ট্রলারসহ আটকের চেষ্টা চালায় রাজাপুর উপজেলা মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী আব্দুল বারেকসহ পুলিশের একটি টিম। এসময় অভিযানে দেখে কয়েক ব্যক্তি নদীতে ঝাঁপ দেয় এবং যুবলীগ নেতা মবিবুর রহমান মৃধা ও তাদের ট্রলার চালককে ধরে অভিযানের ট্রলারে উঠানোর সময় ট্রলার চালকও নদীতে ঝাঁপ দেন। কিন্তু যুবলীগ নেতা মবিবুর রহমান মৃধাকে আটক করতে চাইলে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, ধস্তাধস্তি ও মারধরের ঘটনার এক পর্যায়ে নদীতে পড়ে মজিবুর রহমান মৃধা নিখোঁজ হন। ঘটনার পর উৎসুক জনতা নদীর দুই তীরে জড়ো হলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে অভিযানের ট্রলার। পরে মজিবুর রহমান মৃধার খোঁজে নামে স্বজনরা। তারা রাতভর জেলার বিভিন্ন থানায় ও মৎস্য অফিসসহ সংশ্লিষ্ট কোন স্থানে তাকে না পেয়ে সকালে নদীতে খোঁজাখুজিঁর এক পর্যায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। 

অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযানে অংশ নেয়া রাজাপুর থানার এএসআই শহীদ (২) জানান, সোমবার দুপুরে মৎস্য ও পুলিশ যৌথভাবে ২টি টিমে ভাগ হয়ে একটি বাদুরতলা থেকে নাপিতেরহাট এলাকায় অভিযান চালায় এবং অন্যটি পালটি এলাকায় অভিযান চালায়। মজিবুরকে মারধর কিংবা নিখোঁজের ঘটনা তাদের জানা নেই। 

রাজাপুর উপজেলা মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী আব্দুল বারেক জানান, যেখানে ওই ঘটনা ঘটেছে, সেখানে তারা অভিযানে যাননি। 

এদিকে ঘটনাস্থল ও লাশ উদ্ধারের স্থান রাজাপুর থানার আওতায় হলেও স্বজনরা সকালে বিষখালি নদী থেকে লাশ উদ্ধার করে বাখেরগঞ্জের নিয়ামতিতে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ায় রাজাপুর থানা পুলিশ সেখানে না গিয়ে বাখেরগঞ্জ থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলে।

বাখেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম জানান, মাছ ধরতে বা কিনতে গেলে অভিযানের বোট দেখে নদীতে ঝাপ দিয়েছিলেন মজিবুর। তবে কাদের অভিযান ছিলো তা জানা যায়নি। 

ওসি বলেন, ঘটনাস্থল ও লাশ উদ্ধারের স্থান রাজাপুরের মধ্যে। তাই ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার ও মামলা তাদেরই (রাজাপুর থানা পুলিশ) করতে হতো। কিন্তু তারা করবে না। 

রাজাপুর থানার ওসি জাহিদ হোসেন জানান, যেহেতু লাশ নিয়ে গেছে বাখেরগঞ্জ থানা এলাকায়, তাই ওই থানার পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিবে। 

ওসি জানান, নদীতে নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডও অভিযান চালায়। রাজাপুর থানা পুলিশের সঙ্গে এ রকম কোন ঘটনা ঘটেনি। পুলিশে কাউকে ধাওয়াও দেয়নি বা এ রকম কোন ঘটনা দেখেওনি।

আরও পড়ুন

×