যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় দম্পতিকে বেঁধে নির্যাতন
এভাবেই শাবানাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয় -সমকাল
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০১৯ | ০৮:৩২ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০১৯ | ০৮:৩৩
রাজশাহীর বাগমারার হামিরকুৎসা ইউনিয়নের কোনাবাড়িয়া গ্রামে স্ত্রীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় দিনমজুর জালাল উদ্দীন (৪২) ও তার স্ত্রী শাবানা বিবিকে (৩৩) রশি দিয়ে হাত-পা বেধেঁ পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী সেকেন্দার আলী ও জেকের আলীসহ সাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
পরে খবর পেয়ে বাগমারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামী জালাল উদ্দীনকে অজ্ঞান ও স্ত্রী শাবানা বিবিকে দড়িতে বাঁধা ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
ওই ঘটনায় আহত শাবানা বিবি বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে বাগমারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই দিনমজুর জালাল উদ্দীন তার পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে মঙ্গলবার তার শাবানা বিবি বাগমারা প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন।
নির্যাতনের শিকার শাবানা জানান, গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের সময় সেকেন্দার আলী সেকেন (৪৫) ও তার ভাই জেকের আলী (৪২) পর্যায়ক্রমে তার বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে যৌন হয়রানি করে। স্বামী জালাল উদ্দীন বাড়িতে আসলে ঘটনাটি তিনি তাকে জানান। জালাল উদ্দীন অভিযুক্ত সেকেন্দার আলীর বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীর যৌন হয়রানির বিষয়টি জানতে চাইলে বাড়ির লোকজন জালাল উদ্দীনকে রশি দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে জখম করেন। এ সময় জালাল উদ্দীন চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। বিষয়টি জানতে পেরে তার স্ত্রী শাবানা বিবি স্বামীকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে গেলে সেকেন্দার ও জেকের আলীর নির্দেশে তাদের লোকজন তাকেও রশি দিয়ে খুটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করেন। খবর পেয়ে এলাকার লোকজন তাদের উদ্ধারে এগিয়ে গেলেও কেউ কাছে ভিড়তে পারেননি। পরে এলাকার লোকজন বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনকে অবহিত করলে তিনি বাগমারা থানা পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় শাবানা ও অজ্ঞান অবস্থায় জালাল উদ্দীনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বাগমারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
হামিরকুৎসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, অনেক চেষ্টার পরে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। এমন নির্মম ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করে জড়িতদের শাশ্তির দাবি জানিয়েছেন।
বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, ওই ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
- বিষয় :
- রাজশাহী
- যৌন হয়রানি
- নির্যাতন