নড়াইলে বিল দখল করে মাছের ঘের, আটক ৩
কামাল প্রতাপ গ্রামের আন্ধারকোটা বিল- সমকাল
নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২০ | ০৪:১৭
নড়াইলে বিলের ফসল ও মাছের অভয়াশ্রমকে নষ্ট ও জবরদখল করে মাছের ঘের করেছে। এ সংক্রান্ত এক রিপোর্ট সোমবার দৈনিক সমকালে প্রকাশিত হবার পর দিন কামাল প্রতাপ গ্রামের এনায়েত কাজী, আমাদা গ্রামের কামরুল খান এবং কামঠানা গ্রামের মিন্টু মিয়াকে পুলিশ আটক করেছে।
জানা গেছে, দুই মাস ধরে সদরের বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের কামাল প্রতাপ গ্রামের আন্ধারকোটা বিলে এনায়েত কাজী প্রায় ১৫ একর, কামরুল খান ৪০ একর এবং মিন্টু মিয়া ৬০ একর জমিতে জবরদখল করে এ মাছের ঘের করছে। কাজ প্রায় শেষের দিকে। এ অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে ভূক্তভোগিরা এক সপ্তাহ আগে জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেন।
অভিযোগে জানা গেছে, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি কামাল প্রতাপ গ্রামের বাসিন্দা ফায়েকুজ্জামান ফিরোজের ৪২ শতক, দুলাল বিশ্বাসের ৯০ শতক, শক্তিপদ বিশ্বসের ৭৮শতক, শান্তিরাম বিশ্বাসের ১একর ২৬শতক, প্রশান্ত বিশ্বাসের ৬০ শতক, সুশীল মন্ডলের ১২ শতক, সৈয়দ রানার ৭৫ শতক এবং সৈয়দ নায়েব আলীর ১একর, সত্যরঞ্জন মালাকারের ১ একর ১৪ শতক, ভক্তদাস বিশ্বাসের ৭৮শতক,সিদ্দিক মল্লিকের ১ একর ৩৫ শতক জমি জবর দখল করে কামরুল, এনায়েত ও মিন্টু মাছের ঘের কেটেছে। এদিকে এমনভাবে ঘের কেটেছে তাতে ওই গ্রামের জয় বিশ্বাস, খায়ের মল্লিক, আমজাদ কাজীসহ অনেকের প্রায় ২০-২৫ একর জমিতে যাওয়ার কোনো পথ নেই। এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করা হলে হত্যাসহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন বিলে কয়েক হাজার একর ফসলি জমিতে অপরিকল্পিত এবং জবরদখল করে অসংখ্য মাছের ঘের গড়ে উঠেছে। ফলে ফসলি জমি কমে যাচ্ছে,দেশী মাছের বিলুপ্তি হচ্ছে, খাল থেকে পানি জমিতে প্রয়োজনের সময় ঢুকতে এবং বের হতে না পারায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।
অভিযুক্ত তিন জনকে আটকের পর ভূক্তভোগি জমির মালিকরা মঙ্গলবার দুপুরে সদর থানায় যান দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা এবং বিচারের দাবিতে। তবে স্থানীয় অন্য একটি পক্ষ বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছে।
সদর থানার ওসি মো. ইলিয়াছ হোসেন বলেন, সোমবার রাতে অভিযুক্ত তিনজনকে কামাল প্রতাপ গ্রাম থেকে আটক করা হয়েছে। জোর করে ঘের করার ঘটনায় মামলা হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
সহকারী কমিশনার(ভূমি) কৃষ্ণা রায় বলেন, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল আন্ধারকোটা বিল পরিদর্শন করেছি। পরবর্তীতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।