ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

কাশিয়ানীতে ১০ হাজার মানুষের চলাচলে নেই কোনো ব্রিজ

কাশিয়ানীতে ১০ হাজার মানুষের চলাচলে নেই কোনো ব্রিজ
×

সাঁকো দিয়েই যাতায়াত করেন গ্রামের মানুষ

মনোজ সাহা, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২০ | ২২:৫১ | আপডেট: ২১ জুন ২০২০ | ২৩:১৭

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার নিজামকান্দি ইউনিয়নের মানুষেরা কৃষিকাজে বিলে যান বেশ কয়েকটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে। খালের দু’ পাড়ে বসবাসকারী ১০ হাজার মানুষের চলাচলে নেই কোনো ব্রিজ।

সাঁকোর ওপর ভর করেই গ্রামের মানুষ বিলের জমিতে কৃষিকাজ করতে যান। সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা চলাচল করেন। ফলসি গ্রামের সাচ্চু মোল্লার বাড়ির সামনের খালের সাঁকো এ কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। 

সাঁকো পার হতে গিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১০ মাস বয়সের একটি শিশু মায়ের কোল থেকে খালের পানিতে পড়ে মারা যায়। এছাড়া এ সাঁকো থেকে খালের পানিতে পড়ে ৭ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। 

নিজামকান্দি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর মো. জাহিদুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ফলসি বাজার থেকে নিজামকান্দি পোস্ট অফিস কাঁচা সড়কের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ব্রিজ নেই। খালে একাধিক বাঁশের সাঁকো দিয়েই দু’ গ্রামের মানুষ চলাচল করে। এতে গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। ফলসী গ্রামের  সাচ্চু মোল্লার বাড়ির সামনের খালের বাঁশের সাঁকোটি গ্রামের মানুষ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন। এখানে ব্রিজ নির্মাণ করা হলে গ্রামের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ উপকৃত হবে। 

ফলসি গ্রামের ফরিদ আহম্মেদ মোল্লা বলেন, গ্রামের কৃষকের কয়েক হাজার বিঘা জমি ফলসি দক্ষিণ ডাঙ্গা বিলে। ওই বিলের জমিতে কাজ করতে অধিকাংশ কৃষক সাঁকো পার হন।  বিলের জমিতে উৎপাদিত পণ্য সাঁকো দিয়ে পারাপার করা হয়। এতে আমাদের কষ্টের শেষ নেই। 

ফলসি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু তালেব মোল্লা বলেন, সাচ্চু মোল্লার বাড়ির সামনে খালের ওপর ব্রিজ খুবই দরকার। এ ব্যাপারে আমি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো কোনো কাজ হয়নি। 

কাশিয়ানী উপজেলা প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্ত্তনীয়া বলেন, ওই সড়কটি আমাদের। সড়কের মধ্যে কোনো ব্রিজ হলে আমরা করে দিতে পারি। কিন্তু সড়কের বাম বা ডান পাশে ব্রিজের প্রয়োজন হলে আমরা দিতে পারি না। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস এটি করে দিতে পারে।

কাশিয়ানী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরান হোসেন মিয়া বলেন, আগামী আগস্টে আমরা এ ব্যাপারে প্রকল্প করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠাবো। কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিলেই এ ব্রিজ করা সম্ভব হবে। 

আরও পড়ুন

×