সাতক্ষীরায় ৯ হাজার কি.মি. গ্রামীণ সড়কে চলছে এলজিইডির উন্নয়ন কার্যক্রম
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ১৬:২৫
গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজীকরণ, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে সাতক্ষীরায় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। চলমান প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলায় মোট ৯ হাজার ২৯৪ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার সড়ক বিটুমিনাস, আরসিসি, ইউনিব্লক ও হেরিংবোন পদ্ধতিতে পাকাকরণ করা হয়েছে। বাকি প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার মাটির সড়ক পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ২১৩ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ, ৩০০ মিটার সেতু নির্মাণ এবং পরিচালন বাজেটের আওতায় ৭৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ২৭০ কিলোমিটার মাটির সড়ক পাকাকরণ এবং ১৫০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।
গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে গত অর্থবছরে ৪০৯ জন দরিদ্র নারী ও ২১ জন পুরুষ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৪৬ জনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৫ দশমিক ৪ কিলোমিটার খাল খনন, ২১টি ঘাটলা নির্মাণ, সরকারি পুকুর উন্নয়ন, সেচব্যবস্থা ও স্লুইস গেটসহ বিভিন্ন পানি সম্পদ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ, ২৪টি আধুনিক বাজার এবং ৪২টি ধর্মীয় অবকাঠামোর উন্নয়নকাজও সম্পন্ন হয়েছে।
এলজিইডির দাবি, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে কৃষক ও চিংড়িচাষিরা কম খরচে দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে নতুন সড়ক ও সেতু নির্মাণের কারণে যাতায়াতের সময় ও পরিবহন ব্যয় কমে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হচ্ছেন।
সাতক্ষীরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এস. এম. তারিকুল হাসান খান বলেন, সম্প্রতি কলারোয়া উপজেলার কয়েক মাস আগে সমাপ্ত একটি সড়ক এবং সদর উপজেলার কুশখালী ইউনিয়ন থেকে ঘোনা ইউনিয়নগামী একটি সড়কের কার্পেটিং কাজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ছড়ানো হয়। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের একজন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পাননি। পরবর্তীতে অভিযোগকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই নিজেদের ভুল স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়ন থেকে কাপ্সানডা বাজার সড়কের কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে—এমন অভিযোগও ওঠে। তবে প্রকৃতপক্ষে কাজ চলমান অবস্থায় কেবল চলতি বিল দেওয়া হয়েছিল। কাজ শেষ হওয়ার পর গত ২৫ জুন চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হয়েছে এবং সরকারের প্রাপ্য অর্থও যথাযথভাবে আদায় করা হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং স্থানীয়ভাবে বালু সংগ্রহে জটিলতার মধ্যেও উন্নয়নকাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে জনবলসংকট দূর করা এবং উপজেলা পর্যায়ে প্রকল্প তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন বরাদ্দ দেওয়া হলে উন্নয়নকাজ আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
- বিষয় :
- সাতক্ষীরা
- এলজিইডি
- উন্নয়ন প্রকল্প