ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

১৩ দিনেও মেলেনি করোনা পরীক্ষার ফলাফল

১৩ দিনেও মেলেনি করোনা পরীক্ষার ফলাফল
×

মুরাদ মৃধা, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২০ | ০১:৫০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১৩ দিন ধরে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) নমুনা পরীক্ষার কোনো ফলাফল আসেনি। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। 

উপজেলায় সর্বশেষ গত ৯ জুন আসা ফলাফলের মধ্যে একজনের করোনা শনাক্ত হয়। বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কে ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ২১ জুন পর্যন্ত করোনা পরীক্ষার জন্য ২৯১ জন নমুনা দিয়েছেন। ৯ জুন পর্যন্ত ১৪১ জনের নমুনার ফলাফল আসে। ১০ জুনের পর থেকে সংগ্রহ করা ১৫১টি নমুনার একটির ফলাফলও রোববার পর্যন্ত পৌঁছায়নি। এদিকে যারা নমুনা দিয়েছেন তাদের অধিকাংশই নিজের ইচ্ছেমতো ঘোরাফেরা করছেন। সবাই যার যার কাজ করছেন। অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।

জানা গেছে, প্রথমদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মানুষকে অনেকটাই নমুনা দিতে বাধ্য করা হতো। তখন অনেকেই নমুনা দিতে চাইত না। আর এখন নমুনার চাপ সামলাতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজনীয় উপকরণ শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে মানুষের বাড়তি চাপ। 

করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিসংখ্যান ঘেটে জানা গেছে, নাসিরনগরে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের ২৩ জনের মধ্যে চলতি জুন মাসের প্রথম ১৫ দিনেই ১৩ জনের করোনায় শনাক্ত হয়েছেন। অর্থাৎ মোট আক্রান্তের ৫৭ শতাংশই চলতি জুন মাসে আক্রান্ত হয়েছেন। নাসিরনগরে সোমবার দুপুর পর্যন্ত আক্রান্ত ২৩ জনের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১০ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আর করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন তিনজন। তাদের সবারই নমুনার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী বলেন, আমার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমার কোম্পানির মালিক ফোন করে বলেছে, করোনা ফল নেগেটিভ আসলে যেন দ্রুত ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেই। কিন্তু হাসপাতালে নমুনা দেওয়ার ১২ দিন পার হলেও কোনো ফলাফল পাচ্ছি না। 

করোনা আক্রান্ত একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, গত ২৪ মে করোনায় আক্রান্ত হয়েছি। দ্বিতীয়বার নমুনা দিলেও ফলাফল এখনো পাইনি। এখন জুন প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ফল না পাওয়া পর্যন্ত কার্যালয়ে যেতে পারব না। 

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অভিজিৎ রায় সমকালকে জানান, যারা নমুনা দিচ্ছেন, তাদের সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সবাইকে সচেতন হতে হবে। আর করোনার উপসর্গ জ্বর, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট-এই চারটির মধ্যে একাধিক সমস্যা না থাকলে অযথা নমুনা দেওয়ার কোনো দরকার নেই।


আরও পড়ুন

×