ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

গ্রেপ্তার এড়াতে পুকুরে ঝাঁপ, ব্যবসায়ীর মৃত্যু

গ্রেপ্তার এড়াতে পুকুরে ঝাঁপ, ব্যবসায়ীর মৃত্যু
×

নোয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২০ | ০৫:০০

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জমি সংক্রান্ত একটি মামলার গ্রেপ্তার এড়াতে রাতের আঁধারে পুকুরে লাফিয়ে পড়ে অসুস্থ হওয়ার পর এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার নাম মোহাম্মদ উল্যাহ (৫২)। রোববার রাত ৩টার দিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। 

মোহাম্মদ উল্যাহ চৌমুহনীর আলিফ প্রেসের মালিক। তার বাড়ি বেগমগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামে। 

মৃত ব্যবসায়ীর পরিবার ও বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ উল্যাহর সঙ্গে একই এলাকার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আবু তাহেরের জমির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে সম্প্রতি মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ১৮ জুন আবু তাহের বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় প্রধান আসামি ছিলেন মোহাম্মদ উল্যাহ।

মোহাম্মদ উল্যাহর ছেলে সেনবাগ সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান জানান, তার বাবা মোহাম্মদ উল্যাহকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ রোববার রাত ১২টার দিকে তাদের বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় তার বাবা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির ছাদ থেকে গাছ বেয়ে নিচে নেমে পুকুরে লাফিয়ে পড়েন। অন্ধকারে পুলিশ ও মামলার বাদীর লোকজন পুকুরের চারপাশ ঘেরাও করে রাখে। এক পর্যায়ে পুলিশ তাকে পানি থেকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মৃতের স্ত্রী রহিমা বেগমের দাবি, বাদীপক্ষের ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা পুলিশের সঙ্গে গ্রেপ্তার অভিযানে অংশ নেয়। যার কারণে ভয়ে তার স্বামী পানিতে লাফিয়ে পড়ে মারা যান। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও অভিযানের নেতৃত্ব থাকা বেগমগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাহেদ বলেন, 'রোববার মধ্যরাতে পুলিশ নিয়ে মোহাম্মদ উল্যাহকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তিনি বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে পানিতে পড়েন। কৌশলে তাকে পানি থেকে তুলে আনার পর তিনি অসুস্থ বোধ করলে তাকে পরিবারের জিম্মায় রেখে পুলিশ চলে আসে। রাত একটার দিকে তাকে চৌমুহনী শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক না থাকায় তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ৩টার দিকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।'

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, 'যেহেতু এ ঘটনায় মৃত ব্যক্তির পরিবারের আপত্তি রয়েছে, তাই লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর বলা যাবে, তিনি কিভাবে মারা গেছেন।'

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) মো: শাহজাহান শেখ বলেন, 'গ্রেপ্তার এড়াতে পুলিশের ভয়ে পানিতে লাফিয়ে পড়ে ওই ব্যক্তি স্ট্রোক করে মারা যান। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় সোমবার বিকেল পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।'

আরও পড়ুন

×