ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

খাস জমি বিক্রি করে বললেন, আমার জমি আমি বিক্রি করছি কার কী সমস্যা!

খাস জমি বিক্রি করে বললেন, আমার জমি আমি বিক্রি করছি কার কী সমস্যা!
×

খাস জমি কিনে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করেছেন অনেকে- সমকাল

পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২০ | ০৬:০৮

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বালুচর পাড়া গ্রামে প্রতি শতাংশ জমি এক লাখ টাকা দরে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে শামসুদ্দিন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১০০ থেকে ১৫০ টাকার স্ট্যাম্পের মাধ্যমে লাখ টাকা দরে এসব খাস জমি বিক্রি করছেন শামসুদ্দিন নামে ওই ব্যক্তি। ইতিমধ্যে এক লাখ টাকা দরে বাবুল মিয়া, নজরুল ইসলাম, মনোয়ারা বেগম (মন্ডা), বাদাম মিয়া (বাদাম ব্যাপারি), শাহজাহান মিয়া ও স্বপন মিয়ার কাছে প্রায় সাড়ে ২২ শতাংশ জমি বিক্রি করেছে শামসুদ্দিন। এসব খাস জমি ক্রয়কৃতরা অধিকাংশই নিম্ন আয়ের মানুষ।

জানতে চাইলে বাবুল মিয়া বলেন, ‘আমার আগে অনেকেই শামসুদ্দিনের কাছ থেকে লাখ টাকা শতাংশ এসব জমি কিনেছে। তাদের দেখাদেখি আমি ও নজরুল ইসলাম দুজন মিলে শামসুদ্দিনের কাছ থেকে এক লাখ টাকা দরে ৫ শতাংশ জমি কিনেছি। শামসুদ্দিন ১০০ টাকার স্ট্যাম্পের মাধ্যমে আমাদের কাছে এই জমি হস্তান্তর করেছে। পরে আমাদের কেনা জমির মাঝে আমরা বাড়ি-ঘর করেছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বালুচর পাড়া গ্রামের এক প্রবীণ ব্যক্তি জানান, এক সময় এসব খাস জমির চার পাশে সরকারিভাবে লাল নিশান দেওয়া ছিল। কিন্ত্র এসব জমির ওপর সরকারিভাবে কোনো তদারকি না থাকায় ও শামসুদ্দিনের বাড়ির পাশে এসব খাস জমি হওয়ায় ধীরে ধীরে জমি গুলো তাদের দখলে চলে যায়। দীর্ঘবছর ধরে এসব জমি শামসুদ্দিনরাই ভোগ-দখল করে আসছে। তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে সরকারি খাস জমি বিক্রি করা হচ্ছে। যে কারণে খাস জমি বিক্রিতে কেউ বাধা দিতেও সাহস পায় না।’

এ বিষয়ে শামসুদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার জমি আমি বিক্রি করছি কার কি সমস্যা!’ এ জমির মালিককানায় শামসুদ্দিন কি না জানতে চেয়ে কাগজপত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

তবে শামসুদ্দিনের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি দাবি করেন, ‘এসব জমি শামসুদ্দিন লিজ নিয়েছে। সেই লিজ মূল্যেই তিনি এসব জমি অন্যত্র স্ট্যাম্পের মাধ্যমে হস্তান্তর করে বিক্রি করছেন।’ তবে লিজ নেওয়ার কোনো কাগজপত্রও তারা দেখাতে রাজি হননি।

জানতে চাইলে খাস জমি বিক্রি করার বিষয়টি একে বারেই অজানা বলে জানান, ঘোড়াশাল পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় কাউন্সিলর জুলহাস মিয়া। তিনি বলেন, ‘শামসুদ্দিন খাসের জমি বিক্রি করছে, এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই।’

এ ব্যাপারে পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা ইয়াসমিনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, খাস জমি বিক্রি করার বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে জমি বিক্রেতার কাগজপত্র দেখার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে লিজ নেওয়া জমিও কেউ বিক্রি করতে পারবে না বলে জানান ইউএনও রুমানা ইয়াসমিন।

আরও পড়ুন

×