করোনা রোধে পশুর মডেল হাট
চট্টগ্রামে পশুর মডেল হাটের নকশা
আবদুল্লাহ আল মামুন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২০ | ১৫:২৯
করোনা মহামারিতে কোরবানির পশুর হাট নিয়ে চিন্তিত চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ। পশুর বাজারে জনসমাগম হলে সংক্রমণের হার বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় আশার আলো দেখিয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) একদল শিক্ষার্থী। স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে পশুর হাট বসানোর নকশা তৈরি করেছেন তারা।
নগরের পশুর হাটগুলোতে এই নকশা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে ইজারাদারদের নির্দেশনা দিয়েছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। নকশা অনুযায়ী বাজার ব্যবস্থাপনা করা হলে পুরোপুরি না হলেও সংক্রমণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলম বলেন, 'সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চুয়েটের গবেষকদের উপস্থাপিত পশুর হাটের মডেল অনুযায়ী ইজারাদারদের বাজার ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর কিছু অংশ বাস্তবায়ন করবে সিটি করপোরেশন আর কিছু অংশ করবে বাজারের ইজারাদাররা।'
মডেল পশুর হাটের নকশা করেছেন চুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের তিন শিক্ষার্থী। তারা হলেন- চুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ ইমাম বাকের, সিনিয়র সহসভাপতি ফারহান আরিফ রহমান ও তাসফিয়া তাসনিম। তাদের সহযোগিতা করেছেন স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী অম্লান বিশ্বাস ও পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব উদ্দিন চৌধুরী। নকশার পরামর্শক হিসেবে ছিলেন চুয়েটের মেকাট্রনিক্স ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হুমায়ূন কবির। গতকাল সোমবার সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে নকশাটি ইজারাদারদের সামনে তুলে ধরেন তারা।
নকশায় একটি পথ না রেখে মডেল পশুর হাটে প্রবেশ ও বের হওয়ার একাধিক পথ রাখা হয়েছে। প্রবেশপথে থাকবে জীবাণুনাশক চেম্বার। বাজারের ভেতর বর্গাকার আকৃতির গরু প্রদর্শনের ব্লক সাজানো হয়েছে। ব্লকের মাঝখানে বিক্রেতাদের অবস্থান ও গরুর খাবারের জায়গা রাখা হয়েছে। গরুর সামনে বাঁশ দিয়ে বক্স আকারের একটি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে একজন ক্রেতা দাঁড়িয়ে গরু দেখে দরদাম করতে পারবেন। ক্রেতার সঙ্গে বিক্রেতার দূরত্ব থাকবে কমপক্ষে ১০ ফুট। একই সঙ্গে একটি ব্লকে ২০ থেকে ৫০ জন লোক সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গরু দেখতে পারবেন। প্রতিটি ব্লকেই থাকবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। পুরো হাটজুড়ে থাকবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচলের প্রশস্ত পথ। পুরো হাটকে শুকনো রাখতে প্রতিটি ব্লকের সঙ্গে থাকবে পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা।
চুয়েটের মেকাট্রনিক্স ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হুমায়ূন কবির সমকালকে বলেন, 'বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধিগুলো অনুসরণ করে পশুর হাটের নকশা তৈরি করা হয়েছে। কিছু পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।'
নকশার ডিজাইনার সৈয়দ ইমাম বাকের ও ফারহান আরিফ রহমান জানান, পশুর হাটের নকশায় তিন স্তরের সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব নিশ্চিত করা যাবে।'
স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী তাসফিয়া তাসনিম বলেন, 'সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের যে কোনো পশুর বাজারের ব্যবস্থাপনা এই নকশা অনুযায়ী করা যাবে। ইজারাদাররা চাইলে নকশা বাস্তবায়নে তাদের সহযোগিতা করা হবে।'
এ প্রসঙ্গে চসিকের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, 'চুয়েটের শিক্ষার্থীদের উপস্থাপিত নকশা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা গেলে সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ইজারাদারদের মাথায় রাখতে হবে, ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এবার বাজার বসছে। এখানে হেলাফেলার কোনো সুযোগ নেই।