বাগেরহাটে টানা বৃষ্টিতে পানিবন্দি সহস্রাধিক পরিবার
ভেসে গেছে চিংড়ি ঘের ও পুকুর
বাগেরহাটে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে চিংড়ি ঘের। ছবি: সমকাল
বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৫ | ১৯:৪১
উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। শহরের বিভিন্ন এলাকাসহ নিম্নাঞ্চলে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সহস্রাধিক পরিবার। ভেসে গেছে চিংড়ি ঘের, পুকুর ও ফসলি জমির বীজতলা।
সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে বাগেরহাট শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও ঘনবসতিপূর্ণ অনেক এলাকা। নিম্নআয়ের পরিবারে রান্না থেকে শুরু করে শিশুদের স্কুলে যাওয়াসহ সবকিছুতেই নেমেছে অচলাবস্থা।
রামপাল উপজেলার চাকশ্রী গ্রামের চিংড়ি চাষি আবু হুরায়রা বলেন, আমার সাত বিঘা ঘেরে চিংড়ির পোনা ছিল। হঠাৎ পানি বেড়ে গিয়ে সব ভেসে গেছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।
একই এলাকার চিংড়ি ঘের মালিক হারুন শেখ বলেন, কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পানি বাড়তে বাড়তে সব ঘেরের পাড় ভেঙে গেছে। প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন আবার পোনা কিনে ঘের তোলার সামর্থ্য নেই।

পৌরশহরের খারদ্দার এলাকার পানি বন্দি গৃহবধূ রুনা বেগম বলেন, ঘরের ভেতর পানি উঠে গেছে। চুলায় আগুন জ্বালাতে পারছি না। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
যাত্রাপুর এলাকার বৃদ্ধ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, এ বয়সে হাঁটু পানি পার হয়ে বাজারে যাওয়া যায় না। পায়ে ব্যথা আছে, তাই ঘরেই আটকে পড়েছি। কেউ সহায়তা করলে তবেই বাজার করতে পারি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোতাহার হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলে আমনের বীজতলা ও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. আবুল কালাম আজাদ জানান, বাগেরহাট সদরসহ উপকূলীয় তিন উপজেলায় ৯১৫টি চিংড়ি ঘের, ১৭৭টি পুকুর ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছে। বৃষ্টি থামার পর সঠিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পাওয়া যাবে।
- বিষয় :
- ভারী বৃষ্টি
- জলাবদ্ধতা
- বাগেরহাট
- চিংড়ি
