ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সড়ক ছাড়া সেতু দাঁড়িয়ে আছে তিন বছর

সড়ক ছাড়া সেতু দাঁড়িয়ে আছে তিন বছর
×

ছবি: সমকাল

বাউফল প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৫ | ২২:০৬

পটুয়াখালীর বাউফল ও দশমিনা উপজেলার মধ্যবর্তী খালের ওপর ছিল একটি নড়বড়ে আয়রন সেতু। যাতায়াত সহজ করতে সেখানে সাড়ে তিন কোটি টাকায় নির্মাণ করা হয় গার্ডার সেতু। কিন্তু তিন বছরেও সংযোগ সড়ক না হওয়ায় উল্টো চলাচলই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে বাসিন্দাদের। 

দুই উপজেলাকে বিচ্ছিন্ন করা বগী খালের ওপর ২০২১-২২ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয় ২৪ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতু। কিন্তু সংযোগ সড়কের কাজ না করেই চলে যান ঠিকাদার। মূল সড়ক থেকে প্রায় ১০ ফুট উঁচু সেতুতে ওঠার কোনো রাস্তা নেই। পাথরের ব্লক স্তূপ করে তা বেয়ে সেতুতে উঠতে হয় এলাকাবাসীকে। সেতুটি কাজে না আসায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাউফলের কালাইয়া ইউনিয়ন এবং দশমিনার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ১৮ গ্রামের ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে। 

সম্প্রতি বগী এলাকায় কথা হয় স্থানীয় জসিম খাঁর (৫০) সঙ্গে।  তিনি বলেন, পাথরের পাটাতন বেয়ে সেতুতে উঠতে কোমর ব্যথা হয়ে যায়। আগে লোহার ওপর সিমেন্ট দিয়া পোল (সেতু) করেছিল। সেটা ভেঙে তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।

বগী গ্রামের রশিদ সিকদার জানান, তাদের বাড়ি দশমিনা হলেও ডাক্তার-হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ সবকিছু বাউফলে। এ সেতু পাড়ি দিতে তাদের অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেতুর উচ্চতা অনুযায়ী সংযোগ সড়ক করতে হলে তা পশ্চিম পাশের পাকা সড়ক ও দোকান, বসতবাড়ির চেয়ে উঁচু হয়ে যাবে। বন্ধ হয়ে যাবে দোকান-বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা। সেতুটির পূর্ব পাশে বাঁশবাড়িয়া বাজার এবং পশ্চিম পাড়ে কালাইয়ার বগী বাজার। 

দশমিনার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, আগের আয়রন সেতুর জায়গায় আইবিআরপি (আয়রন সেতু প্রকল্প) প্রকল্পের অধীনে গার্ডার সেতু নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করে পটুয়াখালী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। তিন কোটি ৩২ লাখ ৪৫ হাজার টাকার কাজটি পান মুসলিমপাড়ার ঠিকাদার আবুল কালাম আজাদ। তাঁর কাছ থেকে কিনে নিয়ে কাজটি করেন খবির উদ্দীন সিকদার। দুই পাশের সংযোগ সড়ক না করার বিষয়ে খবির উদ্দীন সিকদার বলেন, দুই পাশের বাসিন্দারা সহযোগিতা করেননি, তাই মাটি ভরাটের কাজ করতে পারিনি।

দশমিনা উপজেলা প্রকৌশলী মকবুল হোসেন জানান, কাজটি আবুল কালাম আজাদের নামে। কিন্তু কাজটি করেছেন খবির সিকদার। এখন তাদের ফোন দিলে পাওয়া যায় না। পটুয়াখালী জেলা স্থানীয় সরকার নির্বাহী প্রকৌশলী হোসেন আলী মীর সমকালকে বলেন, সেতুটি পরিদর্শন করেছি। ঠিকাদার কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁকে জরিমানা করে কাজ বাতিল করেছি। নতুন করে ডিজাইন ও প্ল্যান করে বরাদ্দের জন্য প্রকল্প পরিচালকের কাছে পাঠিয়েছি। 

আরও পড়ুন

×