বিলীন মেরিন ড্রাইভ সৈকত রক্ষার দাবি
সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে বালুক্ষয় বেড়েছে কুয়াকাটায়। বিলীন হয়ে গেছে পর্যটন কেন্দ্রের মেরিন ড্রাইভ। শনিবার দুপুরে কুয়াকাটা ট্যুরিজম পার্কের সামনে সমকাল
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৫ | ২৩:৩৫
উদ্বোধনের আগেই বিলীন কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের মেরিন ড্রাইভ। শুধু মেরিন ড্রাইভ নয়, সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে বালুক্ষয়ে বিলীন হয়েছে জিরো পয়েন্ট, ঝাউবন, ফ্রাই মার্কেটসহ অনেক স্থাপনা। এ জন্য প্রশাসনের উদাসীনতার প্রতি আঙুল তুলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শনিবার ‘কুয়াকাটা বাঁচাও, পর্যটন বাঁচাও’ স্লোগানে সৈকতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, কুয়াকাটা নিয়ে উদাসীন বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি, পাউবোসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আইইউআইডিপি প্রকল্পের আওতায় কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে পূর্বদিকে ডিসি পার্কের সামনে ১৩০০ মিটার মেরিন ড্রাইভের কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ। এই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত ২৩ মার্চ। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় প্রথম ধাপে ৭২ দিন সময় বাড়ানো হয়, তাতেও কাজ শেষ হয়নি। ৪ কেটি ৮৫ লাখ টাকার রাস্তাটির ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরসিসি রাস্তা, সাইডে কার্ভস্টোন ও সেগমেন্ট টালি দিয়ে ফুটপাত করার করার কথা। কাজটিতে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে শুরু থেকেই স্থানীয়দের ক্ষোভ। পৌর প্রশাসকের দাবি, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় কাজ করতে দেরি হচ্ছে এবং প্রকল্প পরিচালকের তত্ত্বাবধানে কাজটি চলছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবরার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বেল্লাল হোসেন জানান, কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত রক্ষায় প্রতিবছর পাউবো জিও টিউব ও জিও ব্যাগ দিয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর জিও টিউব না দেওয়ায় রাস্তার নিচের অংশ থেকে বালুক্ষয় হয়ে রাস্তাগুলো ধসে পড়েছে। পৌরসভার সরাসরি তদারকি এবং নিয়ম অনুযায়ী কাজ হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নিম্নমানের কাজ ও সঠিক তদারকি না থাকায় মেরিন ড্রাইভটি টেকসই হয়নি। ফলে অতিদ্রুত এটি নষ্ট হয়ে গেছে। এই মেরিন ড্রাইভ রক্ষায় সবার আগে পুরো এলাকায় গাইড ওয়াল এবং জিও টিউব জরুরি ছিল। টেকসই পরিকল্পনা করতে ব্যর্থ প্রশাসন।
পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদিকের ভাষ্য, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সঙ্গে কথা বলে সড়কটি রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ডিসি পার্ক থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত রক্ষার ব্যাপারে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভার ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভাঙা রাস্তার বাকি অংশে জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা
করা হবে।
পাউবোর কলাপাড়া উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ তারিকুর রহমান তুহিন জানান, সৈকতে ভাঙনের ফলে বিভিন্ন স্থান থেকে ভাঙন দেখা দিয়েছে। অতিদ্রুতই জিও টিউব দিয়ে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করা হবে।
- বিষয় :
- কুয়াকাটা
