নির্মাণ ব্যয় উঠলেও চলছে টোল আদায়, জনমনে ক্ষোভ
মির্জাপুরের গোড়াই-সখীপুর সড়কের বংশাই নদীর ওপর হাঁটুভাঙা সেতুতে চলছে টোল আদায় সমকাল
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৫ | ০১:১১
মির্জাপুরের গোড়াই-সখীপুর সড়কের বংশাই নদীর ওপর হাঁটুভাঙা সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের চেয়ে বেশি টাকা উঠলেও বন্ধ হচ্ছে না টোল আদায়। টোল আদায় বন্ধের দাবিতে সম্প্রতি টোল প্লাজায় দুই দফা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এরপরও সরকারিভাবে ইজারার মাধ্যমে চলছে টোল আদায়।
জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে মির্জাপুর ও সখীপুর উপজেলাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন সরকার গোড়াই-সখীপুর সড়কের বংশাই নদীর হাঁটুভাঙা এলাকায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণকাজ শুরু করে। ২০০১ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত সরকার সেতুটি ইজারা দিয়ে ৯ কোটি ৪৮ লাখ ২০ হাজার ৭৫০ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে।
মির্জাপুরের পাহাড়ি অঞ্চল ও সখীপুর উপজেলার বাসিন্দা ছাড়াও ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর ও নেত্রকোনার যানবাহন এই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করে। সেতুটি চালুর পর থেকেই সরকার টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের মাধ্যমে টোল আদায়ের জন্য ইজারা পদ্ধতি চালু করে। এরপর থেকে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতি বছর সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারাদার নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের দরপত্রে আগামী তিন বছরের (১০৯৬ দিন) জন্য সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পেয়েছেন এস কে ইন্টারন্যাশনাল নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক কবির হোসেন। তিনি যানবাহনের ধরন ভেদে সরকার নির্ধারিত হারে টোল আদায় করে আসছেন।
ইজারাদার কবির হোসেন জানান, সরকারি নিয়ম মেনে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তিন বছরের জন্য সেতুর টোল আদায়ের ইজারা পেয়েছেন তিনি। সরকার নির্ধারিত হারেই যানবাহন থেকে টোল আদায় করা হয়ে থাকে। ট্রেইলারে ১২৫ টাকা, ভারী ট্রাক ১০০ টাকা, মাঝারি ট্রাক ৫০ টাকা, বড় বাস ৪৫ টাকা, ছোট ট্রাক ৪০ টাকা, কৃষি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ৩০ টাকা, ছোট বাস ২৫ টাকা, মাইক্রোবাস বা চার চাকার যান ২০ টাকা, সিডানকার ১৫ টাকা, ৩ চাকার যান ও মোটরসাইকেল ৫ টাকা করে টোল আদায় করা হয়। সম্প্রতি অপরিচিত কিছু লোক দুই দফায় দল বেঁধে এসে টোল অফিসে হামলা ভাঙচুর চালায়।
নির্মাণ ব্যয়ের বেশি অর্থ আদায় হলেও ওই সেতুর টোল আদায় অব্যাহত থাকায় স্থানীয় লোকজন সরাসরি ও ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন। তারা বলছেন, দেশের অনেক বড় বড় সেতুর নির্মাণ ব্যয় উঠে আসার পর টোল আদায় বন্ধ হলেও হাঁটুভাঙা সেতুর টোল আদায় চলছেই।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মতিউর রহমান বলেন, ‘গত ১০ বছর ধরে এই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করে আসছি। প্রতিদিন টোল দিতে হচ্ছে। উপার্জন যে পরিমাণ হয় টোলের টাকা দিয়ে তেমন কিছু আর থাকে না।’
বাসচালক সজিব মিয়া জানান, সারাদিনের উপার্জন থেকে টোল দেওয়ার পর আর বেশি থাকে না। উপার্জন কী হলো তা বড় কথা নয়, সেতুর ওপর দিয়ে গেলে টাকা দিতেই হবে।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সিনথিয়া আজমেরি বলেন, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভা হয়েছে। টোল বন্ধের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে খুব শিগগিরই চিঠি পাঠানো হবে।
- বিষয় :
- টোল
