ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দুদকের গণশুনানিতে অভিযোগ করতে না পেরে বিশৃঙ্খলা

দুদকের গণশুনানিতে অভিযোগ করতে না পেরে বিশৃঙ্খলা
×

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৫ | ২০:৫২ | আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২৫ | ২১:৩৪

বগুড়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানিতে অভিযোগ করতে না পেরে বিশৃঙ্খলা করেছেন সাখাওয়াত হোসেন নামের এক ব্যক্তি। রোববার বেলা ১১টার দিকে বগুড়ার শহীদ টিটু মিলনায়তনে দুদক আয়োজিত গণশুনানিতে এ ঘটনা ঘটে।  গণশুনানিতে প্রতারণার অভিযোগে দু’জনকে আটক এবং দুটি প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশৃঙ্খলাকারী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমার বাড়ি সোনাতলা উপজেলায়। ২০০৮ সালে আমি সরকার থেকে এক বিঘা খাস জমি পাই। ২০১৭ সালে সেই জায়গা দখল করেন আওয়ামী লীগ নেতা সোনাতলা উপজেলার চেয়ারম্যান মিনহাদুজ্জামান লিটন। এটি উদ্ধারে ১৫ বছর ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।’ 

তিনি বলেন, এছাড়া আমার তিনটি জলাশয় থেকে ২১ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে গেছে। আজ গণশুনানিতে আমাকে অভিযোগ উত্থাপনের সুযোগ না দেওয়ায় বিশৃঙ্খলা করেছি।

এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর দুদক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেন গণশুনানি কার্যক্রম শুরু করেন। তিন বলেন, ‘দুর্নীতি আমাদের মধ্যেও আছে, আচরণেও সমস্যা আছে। তবে জনগণের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে এসব সমাধান করা হবে।’ 

দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যক্রমে নজর রাখার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান দুদক চেয়ারম্যান।

গণশুনানিতে সরকারি ও বেসরকারি ৩২টি দপ্তরের বিরুদ্ধে ৯৮টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ৫৭টি অভিযোগ সরাসরি শুনানি করা হয়। শুনানিতে একটি অবৈধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে। বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদন ছাড়াই শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চেয়ারম্যানের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানটির দুই কর্মকর্তা রাব্বি হাসান ও সোহেলকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে পুলিশ। এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে অনুপস্থিত থাকায় পদ্মা ও সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের স্থানীয় কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেওয়া হয়।

শুনানিতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের চারলেন উন্নীতকরণ প্রকল্প এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঙালি নদী খনন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়। এছাড়া শজিমেক হাসপাতাল, মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল, ডিসি অফিস, বিআরটিএ, নির্বাচন অফিস, রেজিস্ট্রি অফিস, সেটেলমেন্ট অফিস, জেলখানা, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে ভুক্তভোগীরা। পরে এসব অভিযোগের কয়েকটি অনুসন্ধানের নির্দেশনা দেন দুদক চেয়ারম্যান।

শুনানির সমাপনী বক্তব্যে ড. আবদুল মোমেন ঘুষ বন্ধে জনসচেতনতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘দুর্নীতি করার জন্য ঘুষ দিতে হয়। আপনারা যদি ঘুষ না দেন, তবে একসময় কাজ ঘুষ ছাড়াই হবে। কারণ সরকারি কর্মকর্তাদের বিকল্প নেই, তাদের কাজ করতেই হবে।

আরও পড়ুন

×