ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হতেই ঘিরে ধরেন দালালরা

চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের  হতেই ঘিরে ধরেন দালালরা
×

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এক রোগীর সঙ্গে কথা বলছেন দালাল চক্রের এক নারী সদস্য (হিজাব পরিহিত) সমকাল

 ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৫ | ০০:৪৯

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই ভিড় করেন দূরদূরান্তের রোগী। হাতে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র। কিন্তু কক্ষ থেকে বের হতেই তাদের পিছু নেন দালাল চক্রের সদস্যরা। বোঝান– সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা নির্ভরযোগ্য নয়, বাইরে করলে খরচও কম, রিপোর্টও ভালো আসবে। এভাবে প্রলোভন দেখিয়ে রোগী ভাগিয়ে নেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে। যেখানে কমিশনের বিনিময়ে পাঠানো হয় তাদের।
সরেজমিন দেখা গেছে, ৫০ শয্যার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে ভিড় করছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগী। টিকিট হাতে চিকিৎসকের কক্ষে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ নিচ্ছেন তারা। তবে চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হতেই রোগীদের ঘিরে ধরছেন দালাল চক্রের সদস্যরা। কাগজপত্রে চোখ বুলিয়ে বোঝাচ্ছেন– সরকারি হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষা মানসম্মত নয়, বাইরে করালে খরচ কম হবে, রিপোর্টও ভালো আসবে। তাদের প্রলোভনে পড়ে অনেক রোগী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে যাচ্ছেন। বিনিময়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কমিশন পাচ্ছেন দালালরা।
গত রোববার হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কথা হয় হোসনেআরা খাতুন নামে এক নারীর সঙ্গে। আলাপকালে তিনি বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরই কয়েকজন নারী এসে বললেন এই হাসপাতালের পরীক্ষা মানসম্মত নয়, বাইরে করালে রিপোর্ট ভালো হবে। পরে জানতে পারি বাইরে পরীক্ষা করাতে খরচ দ্বিগুণ-তিনগুণ বেশি।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে প্রতিদিন ঘোরাফেরা করছেন দালাল চক্রের ১০-১৫ জন নারী সদস্য। তারা রোগীদের টার্গেট করে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান, যেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ হাসপাতালের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র সক্রিয় থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কার্য‍কর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে আলট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষা বন্ধ। অন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাসপাতালের ভেতরেই করা হয়, যা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তুলনায় অর্ধেকেরও কম খরচে হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে ৭০ টাকা, ইসিজি ১০০ টাকা, রক্তের পরীক্ষা (সিবিসি) ১৫০ টাকায় করা যায়। অপরদিকে উপজেলার বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্স-রে ৪০০-৫০০ টাকা, ইসিজি ৩০০ টাকা, সিবিসি ৪০০-৫০০ টাকা লাগে। অর্থাৎ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩২০ টাকায় করা যায় যেই তিনটি পরীক্ষা, সেই পরীক্ষাগুলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করতে খরচ পড়ে প্রায় এক হাজার ৩০০ টাকা। এভাবে রোগীর পকেট থেকে অতিরিক্ত ৭৮০-৯৮০ টাকা বের করা হচ্ছে।
হাসপাতালের ভেতরে দালাল চক্রের সক্রিয়তার বিষয়টি স্বীকার করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন। তাঁর ভাষ্য, দালালদের ধরার চেষ্টা করেছেন, তবে তারা রোগীদের সঙ্গে এমনভাবে মিশে থাকে যে ধরা যায় না। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানায় জানানো হয়েছে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, ‘নামসহ কয়েকজন দালালের তালিকা পেয়েছি। দ্রুতই অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
 

আরও পড়ুন

×