কক্সবাজারে উদ্ধার হওয়া কামানের তিন গোলা নিষ্ক্রিয়
ছবি: সমকাল
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ২২:৩৪
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় উদ্ধার হওয়া কামানের তিনটি গোলা ১৭ দিন পর নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কাটিয়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক (তদন্ত) এটিএম সিফাতুল মাজদার জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ভোমরিয়াগোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে গোলাগুলো ধ্বংস করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মে ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নতুন অফিস এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী নুরুল আজিমের বাড়ি থেকে কামানের গোলার মতো তিনটি বস্তু উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি জানার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে।
পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে বস্তুগুলো কামানের গোলা হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এগুলো নিরাপদে ধ্বংসের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিমকে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট নির্ধারিত স্থানে একটি নিরাপদ বিস্ফোরণ এলাকা প্রস্তুত করে। মাটি খনন ও চারপাশে বালুর বস্তা দিয়ে সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের পর নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে গোলাগুলো ধ্বংস করা হয়।
এটিএম সিফাতুল মাজদার বলেন, গোলাগুলো নিষ্ক্রিয় করার পর এলাকায় আর কোনো ঝুঁকি নেই। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ভাঙারি ব্যবসায়ী নুরুল আজিম জানান, ভারুয়াখালী এলাকা থেকে লোহালক্কড় সংগ্রহের সময় তিনি গোলাকৃতির তিনটি ধাতব বস্তু পান। প্রথমে তিনি সেগুলো কোনো ভারী যানবাহনের পুরোনো যন্ত্রাংশ বলে মনে করেছিলেন। পরে বিক্রির জন্য নিয়ে গেলে কয়েকজন ক্রেতা বস্তুগুলো দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং এগুলো বিস্ফোরক হতে পারে বলে ধারণা দেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি বস্তুগুলো বাড়িতে নিয়ে আসি। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনও এগুলোকে বিপজ্জনক বলে মনে করেন। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে প্রশাসনকে বিষয়টি জানাই। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকা ঘিরে রাখে। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা বস্তুগুলো পরীক্ষা করে এগুলোকে বিপজ্জনক বলে নিশ্চিত করেন।
নুরুল আজিম বলেন, দীর্ঘদিন গোলাগুলো আমার বাড়ির আঙিনায় থাকায় আমি ও এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন ছিলাম। এখন সেগুলো নিষ্ক্রিয় করায় সবাই স্বস্তি বোধ করছি।
উল্লেখ্য, গত ১৮ মে ঈদগাঁও উপজেলার নতুন অফিস এলাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী নুরুল আজিমের বাড়ি থেকে কামানের তিনটি গোলা উদ্ধার করে পুলিশ।
- বিষয় :
- কক্সবাজার
