বরগুনায় অজানা রোগে মরছে ছাগল
.
বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:৩১
বরগুনায় হঠাৎ করেই অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে অসংখ্য ছাগল। এতে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন একের পর এক ছাগল খামারিরা। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের যথাযথ তদারকির অভাবে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের চিকিৎসকরা বলছেন, অতিবর্ষণে খাবারে বিষক্রিয়া, কৃমির আক্রমণ, ভাইরাস এবং
সময়মতো ভ্যাকসিন না দেওয়াসহ নানা কারণে মারা যাচ্ছে ছাগল।
ভুক্তভোগী খামারিরা জানান, এ বছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে হঠাৎ করেই অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ছাগল মারা যাচ্ছে। আক্রান্ত ছাগলের পাতলা পায়খানা, গলা অথবা পেট ফুলে ওঠে। পরে জ্বরে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে
পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের চিকিৎসাও কাজে আসছে না।
বরগুনা পৌর শহরের ফরমান আলী সড়কে একটি ছাগলের খামার রয়েছে দেলোয়ার হোসেন ও সুফিয়া বেগম দম্পতির। সুফিয়া বেগম জানান, ছাগলের খামার করে দীর্ঘদিনের চেষ্টায় সফলতা পেয়েছিলেন তারা। অজানা রোগে গত এক মাসে খামারের ২২টি ছাগলের মধ্যে আটটি মারা
গেছে। আরও কয়েকটির পাতলা পায়খানা হয়েছে। জানি না এগুলোর কী হয়। তারা এখন নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার পথে।
সুফিয়ার স্বামী দেলোয়ার হোসেন বলেন, এক মাস আগে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরামর্শে সবগুলো ছাগলকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তারপর থেকেই মারা যাওয়া শুরু হয়েছে। ছাগলের মড়কের কারণ বুঝতে পারছেন না তিনি।
ছাগলের মড়কে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের চরকগাছিয়া গ্রামের খামারিরা। গ্রামের প্রায় প্রত্যেক খামারি একটি থেকে চার-পাঁচটি পর্যন্ত ছাগল মারা গেছে। ওই গ্রামের মো. বেল্লাল হোসেন নামের এক খামারি জানান, তাঁর ৯টি ছাগল ছিল। অজানা রোগে গত এক মাসের মধ্যে পাঁচটি ছাগল মারা গেছে।
ছাগলের রোগের লক্ষণ সম্পর্কে তিনি বলেন, আক্রান্ত ছাগলের প্রথমে পাতলা পায়খানা হয়। এরপর গলা অথবা পেট ফুলে ওঠে। একই সঙ্গে গায়ে জ্বর ওঠে। জ্বরে ভোগার এক-দুদিনের মধ্যে মারা যায়। এ সময় কোনো ডাক্তার দেখালেও কাজ হয় না।
একই গ্রামের মো. রুহুল আমিন খান বলেন, ‘আমরা ছাগল পালি (পালন করা) লাভের আশায়, এ্যাহোন (এখন) লাভ তো দূরের কথা, সুদে টাহা (টাকা) আইন্না সংসার চালানো লাগবে।’
শহিদুল ইসলাম নামে অপর একজন খামারি বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে ছাগল খামারিদের নিয়মিত তদারকি করলে তারা এমন ক্ষতি থেকে বাঁচতে পারতেন।
এ বিষয়ে বরগুনা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটিরিনারি হাসপাতালের চিকিৎসক বীথি দেবনাথ বলেন, অতিবর্ষণে খাবারে (ঘাসে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে) বিষক্রিয়া, কৃমির আক্রমণ, ভাইরাস এবং সময়মতো ভ্যাকসিন না দেওয়াসহ নানা কারণে ছাগল মারা যাচ্ছে। সরকারের
দেওয়া বিনামূল্যে ভ্যাকসিন নিয়মিত দেওয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ে খামারিদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
- বিষয় :
- ছাগল
