সাদাপাথর তিন দিনের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ
সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো থেকে লুট করা হয়েছে লাখ লাখ ঘনফুট পাথর। সেই পাথর উদ্ধারে চলছে অভিযান। জৈন্তাপুর বাংলাবাজারে টাস্কফোর্সের অভিযানে শনিবার উদ্ধার করা হয় ১৪ হাজার ঘনফুট পাথর - সমকাল
সিলেট ব্যুরো ও গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:৫৬
কোম্পানীগঞ্জে কেউ সাদাপাথর লুকিয়ে রাখলে তা ফিরিয়ে দিতে তিন দিন সময় দিয়েছে প্রশাসন। এই সময়ের পরে কারও কাছে পাথর পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে গতকাল শনিবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোকজনকে জানানো হয়েছে। এদিকে জৈন্তাপুরে উপজেলা প্রশাসন ও টাস্কফোর্সের অভিযানে ১৪ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে। গোয়াইনঘাটে জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে পাথর লুটের ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল কোম্পানীগঞ্জে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পদ্মসন সিংহ বলেন, কেউ সাদাপাথর লুকিয়ে রাখলে তিন দিনের মধ্যে নির্ধারিত স্থানে ফিরিয়ে দিতে হবে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়ার সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পদ্মসন সিংহ।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা শিবলী আতিকা তিন্নির সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, পর্যটন ও সংরক্ষিত এলাকা নির্ধারণ করে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনের জন্য লিজ দিতে হবে। এলাকা নির্ধারণ না করলে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ করা কঠিন হবে। ব্যবসায়ীরা দাবি করেন বৈধভাবে যারা পাথর আমদানি বা ক্রাশিং করছেন, তাদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ক্রাশিং মিলের বৈদ্যুতিক সংযোগ ফিরিয়ে দিতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ গোয়াইনঘাট সার্কেল এএসপি আব্দুল্লাহ আল নোমান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল মতিন, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুজন চন্দ্র, সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ফয়জুর রহমান, ইছাকলস ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন সাজু, চুনাপাথর আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল, পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন, খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ মাসুম আহমদ, গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক লিটন মাহমুদ প্রমুখ।
সভায় পদ্মসন সিংহ বলেন, সাদাপাথর এলাকার সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে তারা সবার সহযোগিতা চান। কেউ পাথর ফিরিয়ে না দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়টি মাইকিং করে পুরো এলাকায় জানিয়ে দেওয়া হবে।
জৈন্তাপুরে পাথর জব্দ
জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসন ও টাস্কফোর্সের অভিযানে গতকাল ১৪ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে। এদিন সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করে টাস্কফোর্স। অভিযান চলাকালে বাংলাবাজার এলাকায় কয়েকটি ক্রাশার মিলে রাংপানি নদীর দুই হাজার ঘনফুট ও শ্রীপুর চা বাগানের পাশে মজুত করে রাখা ১২ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ মিত্র চাকমা বলেন, গত সপ্তাহে জব্দ সাড়ে ৯ হাজার ঘনফুট পাথর রাংপানি নদীতে পুনঃস্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। আজ (গতকাল) জব্দ দুই হাজার ঘনফুট পাথরও রাংপানি নদীতে পুনঃস্থাপন করা হবে।
এছাড়া শ্রীপুর চা বাগান এলাকা থেকে জব্দ করা ১২ হাজার ঘনফুট পাথর জাফলংয়ের পিয়াইন নদীতে পুনঃস্থাপন করা হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা আক্তার লাবনী, জৈন্তাপুর থানা পুলিশ ও সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বাধীন শ্রীপুর বিওপির সদস্যরা।
জাফলংয়ে অভিযান
জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে পাথর লুটের ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে জাফলংয়ের মামার বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তারা হলেন মামার বাজার এলাকার শহিদ মিয়ার ছেলে আফজল হোসেন ও লাখেরপাড় গ্রামের মন্তাজ মিয়ার ছেলে জাবেদ আহমদ।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি (তদন্ত) মো. কবির হোসেন বলেন, আসামিদের জেলে পাঠানো
হয়েছে। অভিযুক্ত অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত ৭ আগস্ট থেকে তিন দিনে জাফলং জিরো পয়েন্টের ৪০ থেকে ৫০ হাজার ঘনফুট পাথর লুট হয়েছে। এ নিয়ে গত সোমবার গোয়াইনঘাট সদর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল মুনায়েম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা করেন।
- বিষয় :
- সাদা পাথর
