ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

বগুড়ায় ‘রেড জোনে’ করোনার সংক্রমণ কমেনি, উল্টো বেড়েছে

বগুড়ায় ‘রেড জোনে’ করোনার সংক্রমণ কমেনি, উল্টো  বেড়েছে
×

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২০ | ০৬:৪২

বগুড়ায় করোনার সংক্রমণ হ্রাসের জন্য শহরের ৯টি মহল্লাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করে সেগুলোকে ‘লকডাউন’ করা হলেও তা কোন কাজে আসেনি। কারণ ‘রেড জোন’ ঘোষিত এলাকাগুলোতে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কমার পরিবর্তে আরও বেড়েছে। 

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ‘রেড জোন’-এর আওতাভুক্ত কোন কোন এলাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার আগের তুলনায় ২৮৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। দু’দফায় টানা ৩৮দিন ‘রেড জোন’ ঘোষণা করেও শহরের ৯টি মহল্লার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসার বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকেও ভাবিয়ে তুলেছে। তাই এ নিয়ে করণীয় নির্ধারণের জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। 

তবে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য সচেতন নাগরিকরা জেলা প্রশাসনের গাফিলতিকেই দুষছেন। তারা বলছেন, ‘রেড জোন’ আর ‘লকডাউন’ কাগজে-কলমেই সীমাদ্ধ ছিল বলে জনগণ অবাধে চলাচল করেছে। আর সে কারণেই করোনার সংক্রমণ না কমে উল্টো বেড়েছে। অবশ্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে রেড জোন কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাদের চেষ্টার কোন কমতি ছিল না। তারপরেও বিষয়গুলো নিয়ে তারা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তীতে করণীয় নির্ধারণ করবে।

বগুড়ায় গত ১ এপ্রিল প্রথম কোন ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হন। তারপর থেকে জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তবে ১০ মে মার্কেট ও বিপনী বিতানগুলো খুলে দেওয়ার পর তা লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে। জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে এবং ১০ জুন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সুপারিশে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আক্রান্তের হার বেশি শহরের- এমন ৯টি মহল্লাকে ১৪ জুন থেকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করা হয়। এগুলো হলো- চেলোপাড়া, নাটাইপাড়া, সুত্রাপুর, নারুলী, ঠনঠনিয়া, হাড়িপাড়া, মালতিনগর, জলেশ্বরীতলা ও লতিফপুর (কলোনী)। রেড জোনের আওতাভুক্ত ওই মহল্লাগুলোতে ‘লকডাউন’ কার্যকরের জন্য সবগুলো প্রবেশপথে বেরিকেডও দেওয়া হয়। প্রথম দফায় ঘোষিত ‘রেড জোন’-এর মেয়াদ ৫ জুলাই পর্যন্ত রাখা হলেও করোনার সংক্রমণ না কমায় পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ২১ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। 

তবে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা বগুড়ার স্থানীয় একটি সংগঠন ও স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দু’ দফায় ‘রেড জোন’ ঘোষিত ওই ৯টি মহল্লায় টানা ৩৮দিন ‘লকডাউন’ রাখা হলেও করেনার সংক্রমণ কমেনি বরং বেড়েছে। যেমন শহরের চেলোপাড়া মহল্লাকে রেডজোনের আওতাভুক্ত করার আগ পর্যন্ত সেখানে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭৪ জন। আর ‘রেড জোন’-এর শেষ দিন ২১ জুলাই আক্রান্তের সংখ্যা ৫৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১১৮ জন। একই সময়ের মধ্যে সুত্রাপুর মহল্লায় করোনা আক্রন্তের সংখ্যা ২৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৬। বৃদ্ধির হার ২৮৪ শতাংশ। একইভাবে শহরের অভিজাত জলেশ্বরীতলা মহল্লায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪ থেকে ৯৮, নারুলীতে ২৬ থেকে ১০০, নাটাইপাড়ায় ২৯ থেকে ৬৯, ঠনঠনিয়ায় ৩৬ থেকে ১১২, মালতিনগরে ৪৬ থেকে ১০৭, লতিফপুরে (কলোনী) ২৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৯ জন।

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) বগুড়ার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুদুর রহমান হেলালের অভিযোগ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘রেড জোন’-এর ঘোষণা শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। এটি যথাযথ কার্যকরের জন্য তেমন কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যে কারণে ‘রেড জোন’ ঘোষিত এলাকার লোকজন অবাধে চলাফেরা করেছে। তাই করোনার সংক্রমণ না কমে উল্টো বেড়েছে। 

তিনি করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘বগুড়ায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এরই মধ্যে ৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এটা রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার মধ্যে সর্বাধিক। এমনকি মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। যদি কঠোর কোন পদক্ষেপ নেওয়া না হয় তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।’

‘রেড জোন’ ঘোষিত মহল্লাগুলোতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, ‘এ জেলায় নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। ফলে শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে- এটা অন্যতম একটা কারণ হতে পারে। তবে আরও যেসব কারণ রয়েছে সেগুলো আমরা খতিয়ে দেখে করণীয় নির্ধারণে আজ বিকেলে (মঙ্গলবার) জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসবো। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ 

বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক ‘রেড জোন’ কার্যকরে যথাযথ পদক্ষেপই গ্রহণের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা সব পদক্ষেপই গ্রহণ করেছি। তবে আজ (মঙ্গলবার) আবার বৈঠকে বসা হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয় হবে।’ 

রেড জোনের মেয়াদ আরও বাড়ানো হবে কি’না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা স্বাস্থ্য বিভাগের সুপরিশের উপর নির্ভর করবে।’

আরও পড়ুন

×