ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

দেড় শতাব্দীর পৌরসভায় সেবাবঞ্চিত নাগরিকরা

দেড় শতাব্দীর পৌরসভায় সেবাবঞ্চিত নাগরিকরা
×

সিরাজগঞ্জের এসবি ফজলুল হক রোডে পৌর কাঁচাবাজার এলাকায় জমেছে ময়লার স্তূপ সমকাল

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:৫৮

দেড় শতাব্দী পুরোনো সিরাজগঞ্জ পৌরসভা কাগজে প্রথম শ্রেণির। কিন্তু সেবায় অনেকে পিছিয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ নাগরিকদের। শহরের বাসিন্দারা জানান, জীর্ণ অবকাঠামো, দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে ট্যাক্স বৃদ্ধির পরও কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত তারা। এসব সমস্যার কথা স্বীকার করে বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শহরের গোশালা রেলগেট থেকে আমলাপাড়া, বীরালকুঠি থেকে মিরপুর, হোসেনপুর থেকে ধানবন্ধি, বাহিরগোলা থেকে নতুন ভাঙ্গাবাড়ি পর্যন্ত সড়কজুড়ে গর্ত আর খানাখন্দে ভরা। মেরামত হলেও কয়েক মাসের মধ্যে আবার ভেঙে যায়। বর্ষায় এগুলো প্রায় অচল হয়ে যায়। গোশালার আমিনুল ইসলামের ভাষ্য, শিশু ও বৃদ্ধরা গাড়ির শব্দে ঘুমাতে পারে না। রিকশাচালক ওমর আলী বলেন, সব সড়ক ভাঙাচোরা। রিকশা চালানো কষ্টকর হয়ে গেছে।
জানা গেছে, রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটো ও ভ্যানের দাপটে দুর্ভোগের শহরে পরিণত হয়েছে পৌর এলাকা। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দিনে ট্রাক প্রবেশ করছে। অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ড ও যত্রতত্র পার্কিংয়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। ফুটপাত হকারের দখলে থাকায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে সড়কে নামতে হয়। নবকুমার কর্মকার নামে স্থানীয় এক বাসিন্দার ভাষ্য, প্রতি বছর ট্যাক্স বাড়ানো হলেও সেবার মান বাড়ে না। দুর্নীতিতেই পৌরসভা পঙ্গু হয়ে গেছে।
ফজলুল হক সড়কের পৌর কাঁচাবাজার কর্দমাক্ত ও অস্বাস্থ্যকর। বৃষ্টির পানি জমে থাকে, আবর্জনায় দুর্গন্ধ ছড়ায়। ঐতিহাসিক কাটাখাল দিয়ে একসময় কলকাতা পর্যন্ত নৌপথ ছিল। এখন সেটি আবর্জনার ভাগাড়। প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প নেওয়া হলেও খাল এখন কচুরিপানা ও মশার প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
২০২২ সালে জার্মান দাতা সংস্থার কাছ থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে একটি আধুনিক জবাইকেন্দ্র নির্মাণ করে পৌর কর্তৃপক্ষ। তিন বছর পেরোলেও তা চালু হয়নি। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে প্রকল্পটি অচল পড়ে আছে। এরই মধ্যে সুদসহ ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটিতে, যা ট্যাক্স বাড়িয়ে আদায় করা হবে বলে আশঙ্কা নাগরিকদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অপরিকল্পিত সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে টাইলস বসানো ও নালা ঢেকে দেওয়ায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা থেকে যাচ্ছে। অনেক স্থাপনা ইতোমধ্যে ভেঙে পড়ছে। যত্রতত্র বিলবোর্ডে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। গোশালা এলাকায় আসবাবের কারখানাগুলোয় রাতভর বৈদ্যুতিক করাতের শব্দে বাসিন্দারা অতিষ্ঠ।
পৌর প্রশাসক কামরুল ইসলাম চিকিৎসাজনিত ছুটিতে যাওয়ার আগে এ বিষয়ে বলেন, রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে, তবে বৃষ্টির কারণে বিলম্ব হচ্ছে। দাতা সংস্থার ঋণে নেওয়া প্রকল্পে দেনা বেড়েছে। যেখানে হাত দেওয়া হচ্ছে, সেখানেই নতুন সমস্যা বের হচ্ছে। আর নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক গণপতি রায়ের ভাষ্য, তিনি সদ্য দায়িত্ব নিয়েছেন, বিস্তারিত জানাতে পারবেন না।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৩ কোটি টাকার দরপত্র সম্পন্ন হয়েছে ভাঙা সড়ক মেরামতের জন্য। বাহিরগোলা ও বীরালাকুঠি এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে, পর্যায়ক্রমে অন্য এলাকাতেও সম্প্রসারণ করা হবে।

আরও পড়ুন

×