ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নবাবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি সামসুদ্দোহা

নবাবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি সামসুদ্দোহা
×

ড. খন্দকার সামসুদ্দোহা

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৯:৪০

গ্রেপ্তার হলেন সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ড. খন্দকার সামসুদ্দোহা। নবাবগঞ্জের পানালিয়া ওয়ান্ডেরালা গ্রিনপার্ক থেকে আজ রোববার সকাল ১১টায় তাকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ড. খন্দকার সামসুদ্দোহা তার নিজস্ব বাড়ী ঢাকার নবাবগঞ্জের পানালিয়া অবস্থান করছিলেন। গতকাল শনিবার তিনি মদ পান করে বাসার কাজের লোকজনকে হুমকি-ধামকি দেন। পরে রাত ১১টায় তার এক কাজের মহিলা ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে বিষয়টি জানান। নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যায়। তিনি পুলিশকে দেখেও তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নবাবগঞ্জ থানার ওসি মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ রাতভর সেখানে অবস্থান করে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সাবেক এ অতিরিক্ত আইজিপি তার বাসার কাজের চার মহিলাসহ কয়েকজনকে বেতন না দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। নিজের লাইসেন্সকৃত অস্ত্র দিয়ে তাদেরকে গুলি করার হুমকি দেন। পুলিশ দেখে তিনি তার কক্ষের দরজা আটকে দিয়ে ভেতরে অবস্থান করেন। দীর্ঘসময় পুলিশ তার রুমের দরজা খোলার অপেক্ষায় থাকে। গভীর রাত থেকেই পুলিশের একাধিক টিম তাকে গ্রেপ্তারে কাজ করে। পরে আজ রোববার সকাল ১১টার দিকে তাকে আটক করে ঢাকায় আদালতে হাজির করে। সাবেক এ পুলিশ কর্মকর্তার লাইসেন্সকৃত পিস্তলটি নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ জব্দ করেছে। 

১৯৮৬ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন শামসুদ্দোহা। ২০১১ সালে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতি পান। তাকে ২০১১ সালে প্রেষণে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় সরকার। দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ওঠে। এরপর ২০১৫ সালে তাঁকে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ৩ মার্চ তিনি পুলিশ বাহিনী থেকে অবসরে যান।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম বলেন, কক্ষের দরজা না খোলায় তারা দীর্ঘসময় অপেক্ষার পর সাবেক এ অতিরিক্ত আইজিপিকে গ্রেপ্তার করেন। তার বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানার দুটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। 

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, সাবেক এ অতিরিক্ত আইজিপির বিরুদ্ধে দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিলো। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

×