ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ব্যাটারিচালিত রিকশায় নিষেধাজ্ঞা বিপাকে মালিক-শ্রমিক

ব্যাটারিচালিত রিকশায় নিষেধাজ্ঞা বিপাকে মালিক-শ্রমিক
×

.

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:০৪

ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে পর মৌলভীবাজার শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতে যানজট, বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাত্রা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয়। ফলে জেলা প্রশাসন শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

চলমান পরিস্থিতিতে রিকশা শ্রমিকদের উপার্জন কমে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শহরসহ সর্বত্র ব্যাটারিচালিত রিকশা ব্যাপক হারে চলাচল শুরু করে। এতে পৌর শহরের চৌমোহনা, কুসুমবাগ পয়েন্ট, বেরিরপাড় পয়েন্ট, এম সাইফুর রহমান সড়ক, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ এলাকায় হরহামেশা যানজট লেগে থাকে। সাধারণ মানুষসহ অফিসযাত্রী, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।

যানজট নিরসন ও দুর্ঘটনা রোধে পুলিশ প্রশাসনের ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে এ ধরনের বাহন চলাচল বন্ধে গণবিজ্ঞপ্তি গত ২১ আগস্ট প্রচার করা হয়। গণবিজ্ঞপ্তিতে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শহরে রিকশা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এর আগে গত ৩১ আগস্ট জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন, রিকশা শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মতবিনিময় সভা করেন। তখন জেলা প্রশাসক শহরের কোর্ট সড়ক, শাহ মোস্তফা সড়ক ও বেরিরপাড় সড়কে রিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে শহরের ফাঁড়ি রাস্তায় যাত্রী পরিবহনের নির্দেশ দেন।
সদর উপজেলার কুইসার গ্রামের রাকিবুল ইসলাম রাজা জানান, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে কেনা হয়েছিল গাড়ি। লাভের মুখ দেখতে পারেননি। ওই গাড়ি বিক্রি করে ১১টা রিকশা কিনে এখন বেকায়দায় পড়েছেন।
যুগীডহর এলাকার আল্লাহর দান মটর্সের মালিক আলমগীর জানান, ব্যাংক ও এনজিও থেকে ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ৫০টা রিকশা প্রস্তুত করে ভাড়া দিয়েছিলেন। বিধিনিষেধের কারণে বেশির ভাগ রিকশা নিয়ে চালক বের হয় না। গ্যারেজের ভাড়া ও মালিকের রোজ ৩৭০ টাকা দিয়ে তেমন কিছু থাকে না তাদের। মাসিক কিস্তির ৯০ হাজার টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, এ চিন্তায় দিন কাটছে তাঁর।

জেলা রিকশা সংগ্রাম পরিষদের সংগঠক রাজীব সূত্রধর সমকাল প্রতিবেদককে জানান, থ্রি হুইলার সমমানের যানবাহনগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা-২০২৪ চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করা জরুরি। একই সঙ্গে অটোরিকশা নিবন্ধন ও চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে লাইসেন্স বিআরটিএর মাধ্যমে প্রদান করা হলে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির সঙ্গে অবৈধ রিকশা চলাচল বন্ধ হলে কমে যাবে যানজট।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খায়রুল আলম জানান, সড়কে অনুমোদনবিহীন ব্যাটারিচালিত কিংবা কোনো যানবাহন চলাচলের সুযোগ নেই। মূল সড়কে চলাচল করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে ফিডার সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে কোনো বাধা নেই।

আরও পড়ুন

×