সড়কের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় পাঠাল দুদক
খুলনার শিপইয়ার্ড সড়কে উপকরণ পরীক্ষা করছেন দুদকের প্রকৌশল দলের সদস্যরা - সমকাল
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪৬
খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের প্রকৌশল দলের সদস্যরা ওই সড়কের মাটি খুঁড়ে নানা উপকরণ পরীক্ষা করেন। তারা জানিয়েছেন, ওই সড়ক নির্মাণের বিভিন্ন স্তরে যেসব উপকরণ থাকার কথা, তা পাওয়া যায়নি। তারপরও সেগুলো পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। অনিয়মের প্রমাণ মিললে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহাবুব ব্রাদার্স ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩ দশমিক ৭৭৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি ২০১৩ সাল পর্যন্ত খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নিয়ন্ত্রণে ছিল। ভাঙাচোরা সড়কটি মেরামতের কিছুদিন পরই সড়কে গর্ত তৈরি হতো। ২০১৩ সালের ৭ মে ওই সড়ক চার লেনে উন্নীত করে পুনর্নির্মাণের জন্য একনেকে পাঠানো কেডিএর প্রকল্প অনুমোদন পায়। শুরুতে এর ব্যয় ধরা হয় ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় প্রকল্প সংশোধন করা হয়। ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২৫৯ কোটি টাকায়।
২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি কেডিএ ওই প্রকল্পের কার্যাদেশ দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান লিমিটেড অ্যান্ড মাহাবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেডকে (জয়েন্ট ভেঞ্চার)। ওই বছরের ২০ জানুয়ারি কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অর্ধেক কাজ শেষ হয়নি। যদিও ততদিনে ৭০ কোটি টাকার বিল তুলে নেন ঠিকাদার। কাজ ফেলে রেখে জনভোগান্তি তৈরির কারণে গত ৭ আগস্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে কেডিএ। তখন উল্টো কেডিএর বিরুদ্ধে মামলা ও ৬০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়ের আইনি পদক্ষেপ শুরু করে মাহাবুব ব্রাদার্স। বিষয়টি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সমকালে ‘দুর্ভোগ ঘটিয়ে উল্টো ৬০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চান ঠিকাদার’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এতে সড়ক নির্মাণের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরা হয়। এদিন দুপুরেই প্রকৌশল দল নিয়ে সড়কটিতে অভিযান শুরু করে দুদক।
সংস্থাটির খুলনার উপপরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ‘শিপইয়ার্ড সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, কাজ ফেলে জনভোগান্তি তৈরি, কেডিএ ও ঠিকাদারের যোগসাজশে ব্যয় বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। বিষয়টি নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ দেখে আমরা সরেজমিন পরীক্ষা করছি।’
৩ দশমিক ৭৭৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের শেষ ৩০০ মিটার তারা পরীক্ষা করেছেন জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, সেখানে পুরো কাজ হয়েছে বলে কেডিএর মেজারমেন্ট বইয়ে উল্লেখ করেছে। সড়কের ওই অংশে ১০ ইঞ্চি বালুর স্তর, তার ওপর ১০ ইঞ্চি সাব-বেজে ৭০ শতাংশ ইটের খোয়া ও ৩০ শতাংশ বালুর মিশ্রণ থাকার কথা। কিন্তু কয়েকটি স্থানে মাটি খুঁড়ে অনেক কিছু পাওয়া যায়নি। অথচ এসব অংশের বিল তুলেছেন ঠিকাদার।
মো. আবদুল ওয়াদুদ আরও বলেন, ‘আমাদের নিয়োগ করা প্রকৌশলীরা বিষয়টি আরও পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে দেখবেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’
দুদকের সহকারী পরিচালক রাকিবুল ইসলাম বলেন, কেডিএ কার্যালয় থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট নথিপত্র, ঠিকাদারদের বিল পরিশোধের রসিদ ও অন্যান্য কাগজপত্র সংগ্রহ করেছেন। কাগজের সঙ্গে বাস্তবতার অনেক ফারাক রয়েছে।
এ বিষয়ে কেডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক আরমান হোসেন দাবি করেন, ‘শেষ ৩০০ মিটারে কাজ শেষ হয়নি। বাকি সাড়ে ৩ কিলোমিটার ঠিক রয়েছে। তারা শেষ অংশেই পরীক্ষা করছেন।’
- বিষয় :
- শিপইয়ার্ড
