ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

রাস্তায় ইট বিছানো নিয়ে দুই ঠিকাদারের ঠেলাঠেলি

রাস্তায় ইট বিছানো নিয়ে দুই ঠিকাদারের ঠেলাঠেলি
×
×

নান্দাইল উপজেলার কুলধূরুয়া-বাশহাটী রাস্তার ৯ ফুট জায়গায় ইট বিছানো নিয়ে টালবাহানা- সমকাল

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৮:২৬

নান্দাইল উপজেলায় একটি কাঁচা রাস্তায় একই সঙ্গে সরকারি দুটি সংস্থা ইট বিছানোর কাজ করেছে। কিন্তু ‘আমার নয়, তার নয়’ এমন ঠেলাঠেলি করে রাস্তার মাঝখানে কিছু অংশে ইট বিছানো হয়নি। ফলে জায়গাটি গর্তসহ খালি পড়ে আছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ আবার তা নিয়ে কৌতুক করতে ছাড়ছেন না। তারা বলছেন, ফেলে রাখা অংশটুকু করে দেওয়ার দায়িত্ব যখন কারও নয়, তাহলে সে দায়িত্ব এখন পাবলিকের।

নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের কুলধূরুয়া গ্রামে অনেক পুরোনো একটি কাঁচা রাস্তা রয়েছে। নান্দাইল-আঠারোবাড়ী পাকা সড়কের দুলালের দোকান থেকে রাস্তাটি স্থানীয় ওহাব ভূঁইয়ার বাড়ির সামনে দিয়ে বাশহাটী বাজারের কাছে চৌরাস্তা-কেন্দুয়া পাকা সড়কে মিশেছে। রাস্তার শুরুতে দুই কিলোমিটারের মধ্যেই কুলধূরুয়া এবং খামারগাঁও নামে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আশপাশের ছয়টি গ্রামের লোকজন এ রাস্তা ব্যবহার করে নান্দাইল সদর, আঠারোবাড়ী, রায়বাজার এবং বাশহাটী বাজারে চলাচল করেন। বাশহাটী বাজারের দুটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা দিন-রাত এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। দীর্ঘদিন রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা।

প্রায় এক মাস আগে দুলালের দোকান থেকে সাধনের বাড়ি পার হয়ে ১২শ মিটার রাস্তায় দুই ভাগে ইট বিছানোর কাজ করা হয়। প্রথমে ৩৮ মিটার অংশের কাজ এডিবির অর্থায়নে বাস্তবায়ন করে নান্দাইল উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কাজটি পান আতাহার আলী নামে স্থানীয় ঠিকাদার। বাকি এক হাজার মিটার ইট বিছানোর কাজ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে করা হয়। দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় ঠিকাদার সারোয়ার জাহান জনি। প্রায় একই সঙ্গে কাজ শুরু করে শেষ করলেও দুজনের কাজের মাঝখানে আশু মিয়ার বাড়ির সামনে রাস্তায় প্রায় ৯ ফুট জায়গায় ইট বিছানো বাকি। গর্ত করে রাখা রাস্তাটির ওই অংশে কাদাপানি জমে পথচারীদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

গত বুধবার ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় জাহাঙ্গীর ও শাহজাহান মিয়া জানান, প্রথম অংশের কাজ যে ঠিকাদার করেছেন, তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর দেখিয়ে দেওয়া মাপের চেয়েও কিছুটা বেশি করেছেন। কিন্তু পরের অংশের ঠিকাদার রাস্তায় গর্ত করলেও তাতে ইট না বিছিয়ে বাকি অংশে বিছিয়েছেন। স্থানীয় সিরাজ মিয়াসহ অন্যরা জানান, কাজটি শেষ করার জন্য বারবার বলার পরও উভয় ঠিকাদার একে অপরের ওপর দায়িত্ব চাপিয়েছেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাহলে ওই অংশটির কাজ করার দায়িত্ব কি পাবলিকের?
ঠিকাদার আতাহার আলীর ভাষ্য, তাকে যতটুকু চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে, তার চেয়েও এক মিটার বেশি কাজ করে দিয়েছেন।

দ্বিতীয় অংশের ঠিকাদার সারোয়ার হোসেন জনি জানান, তিনি যেখান থেকে কাজ শুরু করার কথা সেখান থেকে শুরু করে আগে কাজ শেষ করেছেন। পরে কী হয়েছে, সেটা তাঁর দেখার বিষয় নয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহসানউল্লাহর ভাষ্য, কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে রাস্তার ওই অংশটি ফাঁকা পড়ে আছে। অচিরেই অন্য একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সেটি করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলজিইডির নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বিশ্বাস জানান, এটা তাঁর কাজ নয়। তাঁর যতটুকু (৩৭ মিটার) করার কথা ততটুকু করা হয়েছে। ওই অংশটুকু কেন বাকি রয়েছে, সেটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলতে পারবেন। 

আরও পড়ুন

×