ডিজিটাল ডিভাইসে পিছিয়ে থাকতে চান না শিক্ষার্থীরা
.
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:২৯
দেশের অন্যতম পশ্চাৎপদ এলাকা কিশোরগঞ্জসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি জেলার হাওরাঞ্চল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ অবকাঠামোসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই হাওর জনপদের জনগোষ্ঠী দেশের অপর অংশ থেকে পিছিয়ে রয়েছে। তবে হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা এখন চেষ্টা করছেন নিজেদের এগিয়ে নেওয়ার। আধুনিক ডিজিটাল ডিভাইসে জীবন পাল্টানোর স্বপ্ন দেখছেন হাওরের শিক্ষার্থীরা।
হাওরের শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে মালালা ফান্ডের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পিপলস ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন (পপি)। কিশোরগঞ্জের শতভাগ হাওর উপজেলা নিকলীতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে পপির বিনামূল্যে এডুকেশন চ্যাম্পিয়ন নেটওয়ার্ক প্রকল্পের উদ্যোগে ‘ডিজিটাল লিটারেসি’বিষয়ক দুই দিনের কর্মশালা করা হয়েছে। শনি ও রোববার নিকলী সদরের শহীদ সরণি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯৬ জন শিক্ষার্থী ও আইসিটি শিক্ষক অংশ নেন।
কর্মশালায় অন্তর্ভুক্ত ছিল ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি, নিরাপদ ও সৃজনশীল ইন্টারনেট ব্যবহার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুলসের ব্যবহার, অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম, যেমন এনসিটিবি শিক্ষক ডট কম, ১০ মিনিট স্কুল ডেটা ও তথ্য ইত্যাদি।
কর্মশালা পরিচালনা করেন পপির জেলা সমন্বয়কারী মুহাম্মদ ফরিদুল আলম ও ফিল্ড সুপারভাইজার গৌরব মোদক। তারা বলেন, হাওর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক পশ্চাৎপদতা দূর করতে ডিজিটাল শিক্ষা অপরিহার্য। এই কর্মশালাটি তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে, প্রযুক্তি জ্ঞানে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করবে, যা আগামীর প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করবে। ডিজিটাল লিটারেসি চর্চা শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠদানে সহায়ক নয়, বরং তাদের উচ্চ শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আত্মোন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, কর্মশালার মাধ্যমে তারা ডিজিটাল দুনিয়ায় নিজেদের নতুনভাবে চিনতে পারছেন। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার টুলস ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তাদের পাঠ গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও আনন্দদায়ক করে তুলবে। নিকলী সদরের সরকারি গোড়াচাঁদ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহমুদুর রহমান রিফাত জানায়, ‘হাওর এলাকা বহুকাল ধরেই শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের দিক থেকে পিছিয়ে আছে। তবে আমাদের সময়ের প্রজন্ম ইন্টারনেটের যুগে এসে নতুন নতুন সম্ভাবনার সন্ধান পাচ্ছি। ইন্টারনেট এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষার ক্ষেত্রে যেমন ভালো করার সুযোগ হাতের কাছে পাচ্ছি, তেমনি এই প্রযুক্তির সুবাদে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সম্ভাবনার আলো দেখতে পাচ্ছি। এই ডিজিটাল টুলসের প্রশিক্ষণ আমাদের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করবে বলে মনে করি।’
নিকলী সদরের শহীদ সরণি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সিদরাতুল মুনতাহা জানায়, ‘এক সময় হাওরের মেয়েদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ খুবই কম ছিল। অভিভাবকরাও মেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রে উদাসীন ছিলেন। এখন হাওরের প্রচুর মেয়ে লেখাপড়া করছে। কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছেলেদের তুলনায় মেয়ের সংখ্যই বেশি। তারা রেজাল্টও ভালো করছে। তবে তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে মেয়েরাও পিছিয়ে থাকবে না। যে কারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ ডিজিটাল প্রযুক্তির নানা বিষয়ে আমরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছি। ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমরা শিখতে পারছি। লেখাপড়াসহ ভবিষ্যৎ জীবনে এই প্রশিক্ষণ বেশ কাজে লাগবে বলে অনুধাবন করতে পারছি।’
- বিষয় :
- ডিজিটাল
