মহাসড়কে ময়লার ভাগাড়
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগআলীতে সড়কের ওপর ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধ সয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয় মানুষকে। সোমবার তোলা -সমকাল
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:৩২
জায়গায় জায়গায় ময়লার স্তূপ। কোথাও আবার ময়লা উপচে পড়ছে চলাচলের পথের ওপর। মহাসড়কের একপাশ পরিণত হয়েছে ভাগাড়ে। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে গোটা এলাকায়। কাক আর কুকুর মুখে করে আবর্জনা ছড়িয়ে দিচ্ছে সর্বত্র। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগআলীতে এমন দৃশ্য দেখা য়ায়।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে ঢাকা, গাজীপুর বা ময়মনসিংহে যাতায়াতাকারীদের কাছে এ ময়লার স্তূপের জন্য চেরাগআলী এলাকা রীতিমতো বিভীষিকায় পরিণত হয়েছে। চেরাগআলী বাসস্ট্যান্ডে প্রতিদিনই যানজট লাগে। যানজট দীর্ঘ হলে গাড়িগুলোকে তীব্র দুর্গন্ধের মধ্যে ময়লার স্তূপের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
সোমবার চেরাগআলী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চেরাগআলীর কাছে তিস্তার গেট রোডের মাথায় পূর্ব পাশ দখল করে ময়লা আবর্জনা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এর উল্টোদিকে ট্রাক স্ট্যান্ড। প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ময়লা। টঙ্গী এলাকার বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ময়লা, ক্লিনিক্যাল বর্জ্য এনে ফেলা হয় এখানে। প্লাস্টিকের বোতল, কার্টন, ককশিট, কাগজ, পলিথিন, বস্তাসহ নানা ধরনের উচ্ছিষ্ট ছড়িয়ে আছে এলাকাজুড়ে। পচা দুর্গন্ধে মহাসড়কে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন যানবাহনে চলাচলরত লোকজন ওই স্থানে আসতেই দুর্গন্ধে অস্থির হয়ে পড়েন।
চেরাগআলী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাস্তায় ময়লা ফেলার কারণে দুর্গন্ধের পাশাপাশি সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ময়লা পানিতে রাস্তা সয়লাব হয়ে যায়। পানির সঙ্গে দূরদূরান্তে ময়লা ভেসে গিয়ে পরবর্তী সময়ে দুর্গন্ধ ছড়ায়। তারা বলেন, উন্মুক্ত স্থানে ময়লা ফেলায় রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। পরিবেশও হুমকির মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন, আপনারা এক দিন এখানে থাকলে বুঝতেন আমরা কী যন্ত্রণায় আছি। হেঁটে গেলে বমি আসে, পেটে ভাত যায় না। শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, বৃদ্ধরা শ্বাস নিতে পারেন না। মনে হয়, এলাকা ছেড়ে পালাতে হবে। আরিফুল ইসলাম নামের আরেকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি এক দিনের সমস্যা নয়। কয়েক মাস ধরে ময়লা ফেলে ভাগাড় তৈরি হয়েছে। কেউ খোঁজ নেয় না।
অটোরিকশা চালক জাকির হোসেন বলেন, চেরাগআলী এলাকায় প্রায় যানজট লেগেই থাকে। এ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কিন্তু গন্ধে দাঁড়িয়ে থাকাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। পোশাক কর্মী বেলী বেগম জানান, আমি চেরাগআলী এলাকায় একটি পোশাক করাখানায় কাজ করি। ময়লার পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। দুর্গন্ধ এমন যে, খাবার মুখে তুলতে পারি না।
গাজীপুরগামী বলাকা পরিবহনের একটি বাসের চালক আকবর আলী বলেন, জ্যামে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলে যাত্রীরা গন্ধে ছটফট করেন।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে দত্তপাড়া তিস্তার গেট এলাকায় একটি ডাম্পিং স্টেশন করা হয়েছিল। গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় টঙ্গী দারুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আপত্তির কারণে সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে জানতে গতকাল মাদ্রাসায় গেলে কেউ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, ময়লার ডাম্পিং থেকে মাদ্রাসায় দুর্গন্ধ আসত।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (টঙ্গী অঞ্চল) নির্বাহী ম্যাজিট্রেট জহিরুল ইসলাম বলেন, টঙ্গীতে তেমন কোনো ময়লা ফেলার যায়গা নেই। আগে যেখানে একটি ময়লার ড্যাম্পিং ছিল সেখানে পাশেই একটি মাদ্রাসা। তাদের ছাত্রদের সমস্যার কারণে ওখানে ময়লা ফেলা বন্ধ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
- বিষয় :
- ময়লার স্তুপ
