সাবেক মন্ত্রী জাবেদের চেক দিয়ে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলন, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আটক
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৮:০৩
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নামে ইস্যু করা ১১টি চেক ব্যবহার করে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিনি বিদেশে পলাতক জাবেদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আরামিট পিএলসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম)।
বুধবার তাকে আটক করা হয়। এই টাকা উত্তোলনের সঙ্গে আত্মসাৎ বা পাচারের যোগসূত্র থাকার কথা বলছে দুদক কর্মকর্তারা।
দুদকের আইনজীবী মোকাররম হোসেন বলেন, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের সই করা চেকগুলোর আসল কপিসহ (মুড়ি) জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের মালিকের অনুপস্থিতিতে অনুমতি ছাড়া টাকা উত্তোলনের অভিযোগ আনা হয়েছে। চারটি ব্যাংক থেকে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের কয়েকটি শাখা থেকে ১ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংক থেকে ৩০ লাখ, সোনালী ব্যাংক থেকে ৩৬ লাখ এবং মেঘনা ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা তোলা হয়। এর আগে অর্থ পাচার মামলায় দুদকের হাতে গ্রেপ্তার ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার আইনি লড়াইয়ের খরচ বহনের জন্য এ টাকা তোলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন জাহাঙ্গীর আলম। ওই দুই কর্মকর্তা হলেন আরামিট পিএলসির দুই এজিএম মো. আবদুল আজিজ ও উৎপল পাল। ১৭ সেপ্টেম্বর অর্থ পাচারের মামলায় এই দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
জাবেদ ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে গত ২৪ জুলাই মামলা করে দুদক। দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান বাদী হয়ে জেলা কার্যালয়ে এই মামলা করেন। মামলায় জাবেদ, তার স্ত্রী রুকমীলা জামান, ভাই-বোন এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৩১ জনকে আসামি করা হয়। এরমধ্যে গ্রেফতার হওয়া আবদুল আজিজ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়ার পর কর্মকর্তা উৎপল পালের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুই কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ এবং উৎপল পাল দুদকের কাছে অর্থ পাচারের বিষয়টি স্বীকার করেন। জাবেদের নির্দেশে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে ২৫ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে বলেও দুদককে জানান তারা।
জানা গেছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের মালিকানাধীন ইউসিবিএল ব্যাংক থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর হওয়ার পর সেই টাকা একই ব্যাংকের চারটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের হিসাব নম্বরে স্থানান্তর করা হয়। পরে এসব টাকা বিদেশে পাচার করা হয়। দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৯-২০ সালের দিকে ভূমিমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে জালিয়াতি ও আত্মসাতের এই ঘটনা ঘটে। গত বছরের ৭ অক্টোবর আদালত জাবেদ ও তার স্ত্রীকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এরপরও কৌশলে বিদেশে পালিয়ে যান তারা। দুদকের তথ্যমতে, জাবেদের নয়টি দেশে বিপুল সম্পদ রয়েছে। এরমধ্যে যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, দুবাইতে ২২৮টি, আমেরিকায় ১০টি বাড়ি রয়েছে। এছাড়াও থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ায় একাধিক সম্পদ রয়েছে তার। দেশ থেকে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন জাবেদ ও তার পরিবার- বলছেন দুদক কর্মকর্তারা।
- বিষয় :
- সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ
