ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পোষ্য কোটা

রাবিতে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি স্থগিত করলেন বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা

রাবিতে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি স্থগিত করলেন বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা
×

শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বরে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আলিম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৯:২৬ | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৯:২৭

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা ইস্যুকে কেন্দ্র করে উপ-উপাচার্য, প্রক্টরসহ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঘোষিত পূর্ণদিবস কর্মবিরতি আপাতত স্থগিত করেছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বরে এ ঘোষণা দেন ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আলিম।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মৌখিক প্রতিশ্রুতি এবং আসন্ন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দাবি পূরণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পুনরায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।  

জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আলিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ দুপুরে উপাচার্যের আহ্বানে শিক্ষক ফোরামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জিয়া পরিষদ ও ইউট্যাবের শিক্ষকদের নিয়ে এক আলোচনা সভা হয়। সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে উপাচার্য ২০ সেপ্টেম্বরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। উপাচার্যের মৌখিক প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে এবং রাকসু নির্বাচনের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে চলমান আন্দোলন কর্মসূচি আগামীকাল (শুক্রবার) থেকে স্থগিত ঘোষণা করছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষীদের শাস্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ যদি নিশ্চিত করা না হয়, সেক্ষেত্রে শিক্ষক ফোরাম সাধারণ শিক্ষকদের নিয়ে স্থগিতকৃত কর্মসূচি পুনরায় গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।’

১৬ অক্টোবর রাকসু নির্বাচনের আগে আবার কর্মসূচি দেওয়া হবে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে আব্দুল আলিম বলেন, ‘রাকসু কার্যক্রম স্বাভাবিক ও গতিশীল রাখার জন্য আমাদের কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। আমাদের দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি ব্যবস্থা নিচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়া হবে। কর্মসূচির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পদক্ষেপ নির্ভর করছে।’

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বরের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষক ফোরামের নেতাদের সঙ্গে খোলামেলা আলাপ হয়েছে। তারা বসে সিদ্ধান্ত জানাবেন। আশা করছি, একটা ভালো সিদ্ধান্ত আসবে।’  

পোষ্য কোটার বিষয়ে উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার আওতায় যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছিল, সেটা আপাতত স্থগিত আছে। বিশ্ববিদ্যালয় সচল রাখার জন্য সবাইকে বুদ্ধি-বিবেক অনুযায়ী একটা বোঝাপড়ার ভেতর দিয়ে যেতে হবে। বোঝাপড়াটা খুব বেশি দরকার। রাকসুর ব্যালট পেপার থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রস্তুতি আমাদের শেষ। এই সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধান করার চেষ্টা করছি। সামনে কী আসবে, না আসবে; আমরা তো কেউ জ্যোতিষী না। তবে সব ধরনের প্রয়াস চলছে। আমরা খুবই আশাবাদী।’

আরও পড়ুন

×