‘বিশেষ দক্ষতা মূল্যায়ন’ পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা ইসলামী ব্যাংক কর্মচারীদের
ছাঁটাইয়ের শঙ্কা
পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধনে অংশ নেন ইসলামী ব্যাংকের আট শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২১:০০ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২১:০০
হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের শনিবারের ‘স্পেশাল কম্পিটেন্সি অ্যাসেসমেন্ট’ পরীক্ষা বর্জন করছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা চট্টগ্রামে মানববন্ধন করেছেন।
আকস্মিকভাবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আয়োজন করা এই মূল্যায়ন পরীক্ষাকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাই পরিকল্পনার অংশ বলে অভিযোগ করেছেন তারা। শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন কর্মকর্তা-কর্মচরীরা। মানববন্ধনে ব্যাংকটির আট শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন।
এদিকে কর্মসূচি চলাকালে মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে একটি অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে ক্লাবের সামনে বিষয়টি নিয়ে তাঁর শরণাপন্ন হন ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় তিনি বিষয়টি নিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন বলে তাদের আশ্বস্ত করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অতীতে ‘বিশেষ দক্ষতা মূল্যায়ন’ পরীক্ষার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট হলে আদালত এ প্রক্রিয়া স্থগিত করে নিয়মিত প্রমোশনাল পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে বাংলাদেশ ব্যাংককেও আদেশ দেওয়া হয়েছিল। সে আদেশ অমান্য করে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নতুন করে শনিবার পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা এবং অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করে নোটিশ জারি করেছে।
তারা আরও বলেন, নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে– পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকলে চাকরিতে বহাল থাকা এবং ক্যারিয়ারে উন্নতির সুযোগ থাকবে না। এতে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য, চাকরিচ্যুত এবং বৈষম্যমূলক আচরণ করা।
মানববন্ধনে ব্যাংক কর্মকর্তা এসএম এমদাদ হোসাইন বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লক্ষ্য করেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অথচ একই ব্যাচে থাকা অন্যান্য অঞ্চলের কর্মকর্তাদের পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছে না। পাঁচ থেকে সাত বছর চাকরির পর হঠাৎ এ ধরনের মূল্যায়ন পরীক্ষা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। পরীক্ষা পদ্ধতিতে কারসাজি রয়েছে। এটি শুধু বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া।
মানববন্ধন থেকে দাবি করা হয়, গত দেড় বছর ধরে চট্টগ্রামের কর্মীদের পদোন্নতিতে বৈষম্য করা হয়েছে। এতে নিয়মিত প্রমোশনাল কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এ ছাড়া জোরপূর্বক ট্রান্সফার ও পোস্টিং করা হচ্ছে। এর বাইরেও বিভিন্ন দলের লোকদের নিয়োগ দিতে ব্যাংকে অস্থায়ী ও স্থায়ী কর্মচারীদের ছাঁটাই করছে কর্তৃপক্ষ।
