ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে ৫ হাজার পরিবার

পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে ৫ হাজার পরিবার
×

মাসুদ নাসির, রাঙ্গুনিয়া

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২০ | ১২:০০

রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড় ধসে ২২ জনের মৃত্যুর ঘটনার পরও পাহাড়ে বসবাসকারীদের সরানো যাচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বৃষ্টি হওয়ার পর থেকে ব্যাপক মাইকিং করে সচেতন করার চেষ্টা করা হলেও তারা নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছেন না। সরকারিভাবে কোনো আশ্রয়কেন্দ্র না খোলায় ঝুঁকিতে বসবাসকারীরা কোথাও যেতে পারছেন না বলে তারা জানান। এভাবে এখনও পাহাড়ের পাদদেশে ফের মৃত্যুঝুঁকিতে বাস করছে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের কমপক্ষে পাঁচ হাজার পরিবার।
বৃষ্টিতে এরই মধ্যে উপজেলার গুমাই বিল, উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডিসি সড়ক, পারুয়া ডিসি সড়ক, বোগাবিলসহ বিভিন্ন মাঠ-ঘাট পানিতে ভরে গেছে। ছোট-বড় পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে এরই মধ্যে ভেঙে পড়েছে অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এভাবে টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে ফের ব্যাপক প্রাণহানিসহ আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পোমরা, বেতাগী, পৌরসভার বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চল, চন্দ্রঘোনার বনগ্রাম, সরফভাটা, শিলক, পদুয়া, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া, পারুয়া, হোছনাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার। দরিদ্র পরিবার হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা সেখানে থাকছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়ার দুই-তৃতীয়াংশ এলাকাজুড়ে রয়েছে পাহাড়ি অঞ্চল। উপজেলার প্রায় অর্ধলাখ মানুষ পাহাড়কে জড়িয়ে বসবাস করছে, যার প্রায় অর্ধেক মানুষ পাহাড়ের ঢালুতে ভূমিধসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। একসময় রাঙ্গুনিয়ার মানুষ চাষাবাদের প্রয়োজনে খামারবাড়ি গড়ে বসবাস করলেও এখন স্থায়ী বসতবাড়ি গড়ে তুলছে। বিশেষ করে নদীভাঙা মানুষ শেষ আশ্রয় হিসেবে পাহাড়ি ভূমিকেই বেছে নিচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শত শত উদ্বাস্তু পরিবার রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়কে ঘিরে গড়ে তুলেছে নিজেদের আবাসঘর।
রাঙ্গুনিয়ার ইউএনও মাসুদুর রহমান জানান, বিভিন্ন ইউনিয়নে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে কাজ করছে প্রশাসন। দিন-রাত বিভিন্ন স্পটে গিয়ে ও ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষকে নিরাপদে সরে আসতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের সচেতন করতে মাইকিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত আছে। সরকারিভাবে উপজেলায় কোনো আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় আপাতত তাদের নিকটস্থ স্কুল-কলেজসহ সামাজিক প্রতিষ্ঠানে থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে।


আরও পড়ুন

×