ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফরিদপুর

এ. কে. আজাদের অনুদান বিতরণের প্যান্ডেল ভাঙচুর

এ. কে. আজাদের অনুদান বিতরণের প্যান্ডেল ভাঙচুর
×

ফরিদপুরের সাবেক সংসদ সদস্য (স্বতন্ত্র) এ. কে. আজাদের অনুষ্ঠানের প্যান্ডেল ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। ছবি: সমকাল

ফরিদপুর অফিস

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৫ | ২২:৪১ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৫ | ১৬:৩১

ফরিদপুরের সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এ. কে. আজাদের অনুষ্ঠানের প্যান্ডেল ভাঙচুর করা হয়েছে। সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত পরিবারের মাঝে অনুদান বিতরণের জন্য পদ্মারপারে ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে শুক্রবার মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরি করা হয়। রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্যান্ডেল ভেঙে শামিয়ানা খুলে নিয়ে যায়।

পরে আজ শনিবার দুপুরে সেই ভাঙা প্যান্ডেলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুদান বিতরণ করেন হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এ. কে. আজাদ।

২৫৫ পরিবারের সদস্যদের হাতে পাঁচ লাখ ১০ হাজার টাকা অনুদান তুলে দেওয়া হয়। এ সময় তিনি পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে ফরিদপুরের চরাঞ্চলের জনপদ রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে চরবাসীকে আশ্বস্ত করেন। এর আগে নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গী ও জয়নাল মাতুব্বরের ডাঙ্গীতে পদ্মার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এ. কে. আজাদ।

শনিবার দুপুরে সেই ভাঙা প্যান্ডেলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুদান বিতরণ করেন হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ। ছবি: সমকাল

অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'চরবাসীর সবচেয়ে বড় সমস্যা নদীভাঙন। আমি এই এলাকার সন্তান, চরবাসীর নদী ভাঙার দুঃখ বুঝি। তবে এই নদী ভাঙার বড় একটি কারণ বালু উত্তোলন। রাতের আঁধারে এখনও বালু নিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালীরা। এদের প্রতিহত করতে না পারলে নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়।'

এ. কে. আজাদ বলেন, 'আড়াই টাকা ফুট বালু তুলে ছয় টাকা ফুট বিক্রি করে। কোটি কোটি ফুট বালু থেকে কোটি কোটি টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়। সেই টাকা কারা ভাগ পায় আমরা জানি। তাদের নাম মুখে নিতে চাই না। সামনে নির্বাচন, তাদের নাম মুখে নিলে লজ্জায় ভোট চাইতে পারবে না।'

তিনি বলেন, 'আমার প্যান্ডেল ভাঙা হয়েছে, আমি ভাঙা প্যান্ডেলে রোদের মধ্যে উপস্থিত চরবাসীকে নিয়ে এই অনুষ্ঠান করে গেলাম। এতে আমাদের সবারই কষ্ট হলো, কারও কোনো উপকার হয়নি।' তিনি বলেন, 'আমি নির্বাচন করব কিনা সিদ্ধান্ত এখনও নেইনি। তবে মানুষ জিদ করলে অনেক কিছু করে। আমাকে প্রতিপক্ষ করবেন না। হুমকি ধমকি দিয়ে এমন সামাজিক কাজকে যারা বাধাগ্রস্ত করতে চান তাদের বলি, আমাকে নির্বাচনে নামতে বাধ্য করবেন না। আমি এখনও আপনাদের প্রতিপক্ষ নই। আমি আপনাদেরই একজন, সবাই মিলে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।'

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লেখক ও সাংবাদিক মফিজ ইমাম মিলন বলেন, 'দলমত বুঝি না। যারা ভালো কাজ করবে আমরা তাদের সঙ্গে আছি। এ. কে. আজাদ সাহেব ভালো লোক। আপনারাই বলেন তার সঙ্গে থাকব, নাকি টাউট-বাটপাড়দের সঙ্গে থাকব। এটা অরাজনৈতিক একটি অনুষ্ঠান ছিল। এখানে ভাঙচুরের বিষয় আসতেই পারে না।'

অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোতালেব হোসেন, পরিচালক বেলাল হোসেন, শিক্ষক নেতা আক্কাস হোসেন, আলীয়াবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ডাবলু, এনজিও ব্যক্তিত্ব বিএম আলাউদ্দিন, নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের মজিদ ফকির, ফারুক হোসেন, আক্তারুজ্জামান, মজনু পাট্টাদার, আফজাল ভূঁইয়া, ইউপি সদস্য সালমা বেগম, কোহিনুর বেগম, আলমগীর খান, জুনায়েদ রহমান, সেকেন্দার মাতুব্বর, আবুল কালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×