ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বারবার বাঁধে ধস, আতঙ্ক নেই স্থায়ী সমাধান

বারবার বাঁধে ধস, আতঙ্ক নেই স্থায়ী সমাধান
×

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধের একাংশ সমকাল

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৪৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ধস আতঙ্ক কাটছে না। তিন বছরে বাঁধের সাতটি পয়েন্টে ধস দেখা দেয়। প্রতিবছর ব্লক ধসে ভাঙন দেখা দিলেও নেওয়া হয় না স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ। শতকোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও বাঁধ ধসের পুনরাবৃত্তি রোধ সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, চিলমারী অংশে প্রায় পাঁচ কিমি বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে পুটিমারী থেকে ফকিরেরহাট পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে। এর মধ্যে কাঁচকোল এলাকার আধা কিমি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট চিলমারীর রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল সড়কটারী এলাকায় প্রথম ধস দেখা দেয়। ওই সময় প্রায় ১০ মিটার ব্লক ধসে যায়। ওই মাসে একই বাঁধের দক্ষিণাংশে আরও ১৫ মিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালের ৬ জুলাই একই এলাকায় প্রায় ৩০ মিটার জায়গা ধসে যায়। 
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কাঁচকোল জকরিটারী এলাকায় ৩০০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দেয়। সবশেষ ১৮ সেপ্টেম্বর কাঁচকোল এলাকার কালিরকুড়া টি-বাঁধে ধস এবং ৯ অক্টোবর সড়কটারী এলাকায় নতুন করে ধস দেখা দেয়। সব মিলিয়ে গত তিন বছরে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের সাতটি স্থানে ধস দেখা গেছে। 
কাঁচকোল এলাকার আবু সাঈদ বাবু বলেন, ভাঙন দেখা দিলেই জিও ব্যাগ ফেলে অস্থায়ী মেরামত করা হয়। টেকসই কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। প্রেম কুমার বর্মণ বলেন, ‘প্রতিবছর বাঁধ মেরামতের নামে সাময়িক কাজ হয়। বন্যা এলে আবার ধসে পড়ে। স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে একদিন পুরো এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সাল থেকে শুরু হয় চিলমারী রক্ষা প্রকল্পের ব্রহ্মপুত্র ডান তীর রক্ষার কাজ। ২০১৩ সালে ৬ কোটি টাকা, ২০১৫ সালে ৭৭ কোটি টাকা এবং ২০১৬ সালে ১৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ কিলোমিটার বাঁধে ব্লক ফেলা হয়। একই বছর ২৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫-৬ কিমি বাঁধের পরিধি বাড়ানো হয়। তবে কোটি টাকার এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও বাঁধ ধসের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়নি।
রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি নাহিদ হাসান বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও সময়মতো সংস্কার না করায় ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা বাঁধের এমন পরিণতি। বাঁধটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে পাঁচটি গ্রামের তিন হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এলাকাবাসীকে এ অবস্থা থেকে রক্ষা করতে দরকার টেকসই প্রকল্প।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ব্রহ্মপুত্র ডান তীর রক্ষায় প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই স্থায়ীভাবে বাঁধ সংস্কার করা হবে। 
 

আরও পড়ুন

×