ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাড়ে ৫ কোটি টাকায় সংস্কার বছর না ঘুরতেই বেহাল

জামালপুরের মাছিমপুর বেলাটিয়া সড়ক

সাড়ে ৫ কোটি টাকায় সংস্কার বছর না ঘুরতেই বেহাল
×

সংস্কারকাজের বছর না ঘুরতেই বেহাল হয়ে পড়েছে জামালপুরের মাছিমপুর-বেলাটিয়া সড়ক। মঙ্গলবার জঙ্গলপাড়া-দিয়াবাড়ী মোড় থেকে তোলা সমকাল

আনোয়ার হোসেন মিন্টু, জামালপুর

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫ | ০৮:০২ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৫ | ১০:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

বছর না ঘুরতেই জামালপুর এলজিইডির সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার একটি বাইবাস সড়কে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় সড়কের দুই পাশ দেবে গেছে। উঠে গেছে সুরকি। সড়কের মাঝখানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

জামালপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্যমতে, জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়কের মাছিমপুর থেকে জামালপুর-টাঙ্গাইল সড়কের বেলটিয়া বাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটার বাইপাস সড়কটি পুনর্নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা। ‘ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লি অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এই সড়কের কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় 
রংপুরের খাইরুল কবির রানা নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের কাজ ২০২৩ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের শেষ দিকে সম্পন্ন হয়।

জামালপুর শহরের জঙ্গলপাড়া এলাকার সাদেক আলী সরকার জানান, সড়কের কাজে নিম্নমানের ইট, বালু ব্যবহার করার সময় কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রভাবশালী ঠিকাদার রাস্তা ঠিকমতো কমপ্যাক্ট না করেই নিম্নমানের খোয়া, ইট ও বালু দিয়ে তাড়াহুড়ো করে কাজ শেষ করেন। এমনকি তদবির করে কাজের চূড়ান্ত বিল ও জামানতের টাকাও নিয়ে গেছেন। যে কারণে অল্প দিনেই সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালেও তিন কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি সংস্কার করা হয়। কাজটি বাস্তবায়ন করেন স্থানীয় ঠিকাদার জাকির হোসেন খান। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই কার্পেটিং উঠে গিয়ে পুরো সড়ক ভেঙে ও দেবে যায়। এরপর ২০২৩ সালে ফের সংস্কার করা হয়। এবারও বছর না ঘুরতেই বেহাল হয়ে পড়েছে সড়কটি।

স্থানীয় বিএনপি নেতা আমান আলীর ভাষ্য, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তাটি বছর না ঘুরতেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। এলজিইডির প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে জামানতের টাকাও তুলে নিয়েছেন ঠিকাদার। এখন এই সড়কে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
নাঙ্গলজোড়া গ্রামের ইস্রাফিল বলেন, ‘আমরা তো ভালো রাস্তার আশা করেছিলাম, কিন্তু কাজটা হয়েছে একেবারে নিম্নমানের। যে কারণে কয়েক মাস না যেতেই রাস্তাটি আগের চেয়েও খারাপ হয়ে গেছে।’

এলাকাবাসী জানান, জামালপুর ছাড়াও ময়মনসিংহ, শেরপুর, মুক্তাগাছা-টাঙ্গাইল, মধুপুর, ধনবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকার শত শত যানবাহন এই সড়কে চলাচল করে। এ ছাড়া স্থানীয় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত এই সড়কে চলাচল করে। ভাঙাচোরা সড়কটিতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ঝুঁকি নিয়েই স্কুল-কলেজে যাতায়াত করছে শিক্ষার্থীরা।

জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সেলিম সমকালকে জানান, সাধারণ মানুষ ও যানবাহনের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করে সরকার রাস্তা সংস্কার করে। সেই রাস্তা যদি কয়েক মাসের মধ্যেই ভেঙে যায়, মানুষের মধ্যে তো ক্ষোভ তৈরি হবেই। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

এলজিইডির জামালপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রোজদিদ আহম্মেদ সমকালকে বলেন, সড়কের কাজটি তাঁর আমলে হয়নি। তিনি শেষদিকে ঠিকাদারের চূড়ান্ত বিলের একাংশ ছাড় দিয়েছেন মাত্র। তাঁর ভাষ্য, অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাক, মাহেন্দ্র ও ১০ চাকার ভারী যানবাহন চলাচল করায় সড়কটি তাড়াতাড়ি ভেঙে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে সড়কটি সংস্কার করলে ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী করেই নির্মাণ করতে হবে।

আরও পড়ুন

×