উদ্যোগ
বাড়ির ছাদে কৃত্রিম চিড়িয়াখানা
পাবনার সাঁথিয়ায় কাশিনাথপুরে বাড়ির ছাদে কৃত্রিম চিড়িয়াখানা ও জাদুঘর- সমকাল
জালাল উদ্দিন, সাঁথিয়া (পাবনা)
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৪৯ | আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৫ | ১০:২২
| প্রিন্ট সংস্করণ
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুর বাজার। এই বাজারে পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে জহির সুপারমার্কেট। তিনতলা ভবনটির দোতলা পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যের দোকান। এর ওপরের তলায় পরিবার নিয়ে থাকেন জহিরুল ইসলাম। তিনি ওই ভবনের মালিক। ভবনটিতে সারাদিন মানুষের আনাগোনা থাকে। সবাই যে শুধু কেনাকাটার জন্য যান তা নয়, এর মধ্যে রয়েছেন দর্শনার্থী। তারা সিঁড়ি বেয়ে সোজা উঠে যান তিনতলা ভবনের ছাদে, যেখানে রয়েছে কৃত্রিম চিড়িয়াখানা ও ছোট্ট শিশুপার্ক। এলাকাবাসীর কাছে বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে সাড়া ফেলেছে জহিরুল ছাদ।
সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় তিন হাজার স্কয়ার ফুটের ছাদের চারপাশ প্রায় চার ফুট উঁচু দেয়ালে ঘেরা। সেখানে রয়েছে শিশু-কিশোরদের জন্য বিভিন্ন রাইডিং। আছে বাঘ, সিংহ, হরিণ, বক, সাপ, উট, হাঙর, শিয়াল, ময়ূর, পেঙ্গুইন, পেঁচা, ডলফিন, মাছরাঙা, ক্যাঙারু, ঈগল, গণ্ডার, শিম্পাঞ্জি, হাতি, ঘোড়া, দুম্বা, জেব্রাসহ অন্তত ৫০টি প্রাণীর ভাস্কর্য। জহিরুলের তিনতলার ফ্ল্যাটের একটি ইউনিট জাদুঘর। সেখানে রয়েছে ৫০ থেকে ৬০ বছরের পুরোনো এবং হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য। সেগুলো হলো কৃষিকাজ, গৃহস্থালি ও পারিবারিক কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী– কলের গান, হুক্কা, লেখার স্লেট, ক্যাসেট, রেডিও, মাথাল, গাছ কাটার করাত, দুধ মাপার বাঁশের চোঙা, হ্যাজাগ, শিঙা, পাখা, পাহাড়ি গাছের ফল, হারিকেন, লাঙল, একতারা, দোতারা, দোয়াত, খড়ম, বেতের তৈরি খালই, ঝুড়ি, চাল মাপার কাঠা, ঝাঁকা, বাঁশের তৈরি গরুর মুখে ব্যবহার করা টুনাসহ প্রায় ৮০০ ঐতিহ্যবাহী পণ্য।
এই কৃত্রিম চিড়িয়াখানা ও জাদুঘরের উদ্যোক্তা ৭০ বছরের জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ২৪ বছর আগে ব্যবসা থেকে অবসর নিয়েছি। অবসরজীবন কাটানো এবং এলাকায় বিনোদনের জন্য হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন প্রাণী ও ঐতিহ্যবাহী পণ্য সংরক্ষণ করে কৃত্রিম চিড়িয়াখানা, জাদুঘর ও মিনি শিশু পার্ক করেছি। পাশাপাশি বিভিন্ন রাইডার তৈরি করেছি শিশুদের বিনোদনের জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাবনায় কোনো জাদুঘর নেই। জাদুঘর তৈরির চিন্তা থেকে ২০২০ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হারিয়ে যাওয়া প্রায় ৮০০ পণ্য সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করেছি, যাতে শিশু-কিশোররা পুরোনো জিনিসের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে। আরও কিছু জিনিস সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি।’
প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে এই বিনোদন কেন্দ্র। সেখানে যেতে কোনো টিকিট লাগে না। বিনা পয়সায় আশপাশের ৩০ থেকে ৪০টি গ্রাম থেকে প্রতিদিন দর্শনার্থী আসেন।
কাশিনাথপুর বিজ্ঞান স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী পার্থ ও মিম জানায়, জেলার মধ্যে ছাদে গড়ে তোলা একমাত্র কৃত্রিম চিড়িয়াখানা ও জাদুঘর এটি। সেখানে ঘুরতে ভালোই লাগে তাদের।
এলাকার মেসার্স ফাতেমা সিন্ডিকেট ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কলেজ শিক্ষক শফিকুল আলম খান টিটুল বলেন, এই চিড়িয়াখানা ও জাদুঘর থেকে হারিয়ে যাওয়া পুরোনো ঐতিহ্য সম্পর্কে শিশু-কিশোররা জানতে পারছে। অল্প জায়গার মধ্যে খুব সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে ছাদটি।
শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশে এটি ভূমিকা রাখবে।
- বিষয় :
- চিড়িয়াখানা
- উদ্যোগ
