ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দুই পুলিশের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলার অভিযোগ

দুই পুলিশের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলার অভিযোগ
×

 মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:২০

| প্রিন্ট সংস্করণ

যশোরের মনিরামপুর পৌরসভায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পুলিশ সদস্যের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার হাকোবা গ্রামের এ ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পরদিন দুই পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজনের নামে মামলা করেন ভুক্তভোগী জয়দেব কুণ্ডু। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করতে যশোর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মকবুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন– হাকোবা গ্রামের প্রভাত কুণ্ডু, তাঁর ছেলে মাখন কুণ্ডু, ভাতিজা পুলিশ সদস্য মোহন কুণ্ডু ও রাজন কুণ্ডু।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হাকোবা গ্রামে ১৩ শতক জমি নিয়ে ব্যবসায়ী জয়দেব কুণ্ডু ও প্রভাত কুণ্ডুর মধ্যে বিরোধ চলছে। ওই জায়গায় গত বছর টিনশেড বাড়ি তুলে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন জয়দেব। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দুপক্ষই আদালতে মামলা করে। এর মধ্যে প্রভাতের মামলাটি গত বুধবার আদালতে শুনানির দিন ধার্য ছিল।
অভিযোগ উঠেছে, গত বুধবার সকালে প্রভাত এবং তাঁর দুই ভাতিজা পুলিশ কনস্টেবল মোহন ও রাজনের নেতৃত্বে ধারালো দা, হকিস্টিক ও লাঠিসোটা নিয়ে জয়দেবের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। বাধা দিলে জয়দেব, তাঁর পরিবারের সদস্য শুক্লা রানী কুণ্ডু, বন্যা রানী কুণ্ডু, ইন্দ্রজিৎ কুণ্ডু ও উজ্জ্বল কুণ্ডুকে মারধর করেন তারা। গুরুতর আহত জয়দেবকে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার পাঁচজনের নামে যশোরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন জয়দেব। বিষয়টি আমলে নিয়ে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল লস্কর তদন্ত করে যশোর ডিবি পুলিশকে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
গতকাল এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যশোর ডিবি পুলিশের ওসি মঞ্জুরুল হক ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। তবে মামলার কপি হাতে পাইনি। আশা করছি, দুয়েক দিনের মধ্যে পাব। এরপর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

এদিকে প্রভাত কুণ্ডু বিরোধীয় ওই জমি নিজের দাবি করে জানান, জয়দেব জমি দখল করে সেখানে বাড়ি করেছেন। এ কারণে বৃহস্পতিবার তিনি ও তাঁর লোকজন জমি দখল করতে যান।
হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশ কনস্টেবল মোহন ও রাজন। তাদের মধ্যে মোহনের কর্মস্থল সাতক্ষীরার সদর থানায় ও রাজনের ঝিনাইদহে। তারা দাবি করেছেন, ঘটনার দিন তারা নিজ নিজ  কর্মস্থলে ছিলেন। তবে মোহন ও রাজনকে হকিস্টিক নিয়ে হামলা চালিয়ে বাড়ি ভাঙচুর করতে দেখেছেন বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। মোবাইল ফোনে হামলার ভিডিওচিত্র ধারণও করেন স্থানীয়রা। এ ব্যাপারে মোহন বলেন, ভিডিওটি গত বছরের একটি ঘটনার।
মনিরামপুর থানার ওসি বাবলুর রহমান খান জানান, গত বৃহস্পতিবার আদালত থেকে বিরোধীয় ওই জমির ওপর ১৪৪ ধারা জারির নির্দেশনা এসেছে। দুয়েক দিনের মধ্যে সেটি কার্যকর করা হবে।

পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি জানান, রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রতিপক্ষের হামলায় এক যুবক আহত হন। এ ঘটনায় মামলা করেন তিনি। ২০ দিন পর ওই যুবকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করে আসামিপক্ষ। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পুলিশের সহায়তায় আসামিরা পাল্টা মামলা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, জমি নিয়ে মিঠাপুকুরের খোড়াগাছ ইউনিয়নের খোড়াগাছ পশ্চিমপাড়া গ্রামের যুবক মোছাব্বির বক্সির সঙ্গে প্রতিবেশী মনিরুজ্জামান জুয়েলের বিরোধ চলছে। এর জেরে মোছাব্বির বক্সির নির্মাণাধীন মার্কেটে হামলা চালানো হয়। বাধা দিত গেলে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষের লোকজন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর সাতজনের নামে মিঠাপুকুর থানায় মামলা করেন তিনি। তদন্তের দায়িত্ব পান থানার এসআই সোহরাব হোসেন।

বাদী মোছাব্বিরের অভিযোগ, তদন্ত কর্মকর্তা সোহরাব ও তাঁর সহকর্মী আতিকুর রহমান মিলে আসামি গ্রেপ্তার করতে প্রথম দফায় ৯ হাজার, দ্বিতীয় দফায় পাঁচ ও তৃতীয় দফায় চার হাজার টাকা নেন। এরপর ৬ নম্বর আসামি রতন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন তারা। অন্যদিকে, প্রধান আসামি মনিরুজ্জামান প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাঁকে গ্রেপ্তার করছিল না পুলিশ। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য আরও ১০ হাজার টাকা নেন সোহরাব। কিন্তু গ্রেপ্তার না করায় পুলিশের সঙ্গে মোছাব্বিরের মনোমালিন্য হয়। পরে পুলিশ আসামিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। মোছাব্বির বলেন, ১৪ অক্টোবর আমাকেসহ তিনজনকে আসামি করে পাল্টা মামলা হয়। মামলার বাদী আসামি মনিরুজ্জামানের মা মোছুদা বেগম। তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই আতিকুর রহমান।

বাদীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই সোহরাব হোসেন। পাল্টা মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আরেক এসআই আতিকুর রহমান বলেন, ‘যে কেউ মামলা করতে পারে। তবে তদন্ত চলছে।’ 
মিঠাপুকুর থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×