অ্যাপার্টমেন্টের জমিতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান
সিডিএর অবহেলার প্রমাণ মিলল, ব্যবস্থা নেবে দুদক
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ | ০৩:০৬
চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ আবাসিক এলাকায় বরাদ্দের শর্ত লঙ্ঘন করে অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের জমি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। দায়িত্ব পালনে সিডিএর অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার সিডিএ কার্যালয়ে গিয়ে এ-সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করেছে দুদকের তদন্ত দল। সিডিএর দায়ী কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। এর আগে গত বছরের ১১ নভেম্বর সমকালের শেষ পৃষ্ঠায় ‘শর্ত লঙ্ঘনেও চুপ সিডিএ: অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণে জমি বরাদ্দ নিয়ে সুপারশপ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সিডিএর আবাসিক এলাকা ও খেলার মাঠ বেআইনিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে দুদকের কাছে আগে থেকেই অভিযোগ ছিল। জায়গাটি দুই দশক আগে অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক নির্মাণের জন্য হাসান আবাসন প্রাইভেট লিমিটেডকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। সিডিএর কাছ থেকে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক নির্মাণের জন্য ৬৮ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ হাসান। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আহসানুল আলম। এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের ভাই হন আবদুল্লাহ হাসান এবং আহসানুল আলম ছেলে। বরাদ্দের শর্ত লঙ্ঘন করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে জমিটি ভাড়া দিয়েছেন তারা। কিন্তু সিডিএ বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
দুদকের উপসহকারী পরিচালক হামেদ রেজা বলেন, ‘বরাদ্দের শর্ত লঙ্ঘন করলেও ইজারাদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সিডিএ। দায়িত্ব পালনে প্রতিষ্ঠানটির অবহেলা রয়েছে। আবার ইজারা পাওয়া প্রতিষ্ঠান হাসান আবাসন প্রাইভেট লিমিটেড সেখানে ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়েছে। এখানে সিডিএর কোনো কর্মকর্তার দায় রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখে দুদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জানতে চাইলে সিডিএর প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, ‘আগ্রাবাদ আবাসিক এলাকার একটি জায়গা নিয়ে তথ্য চেয়েছিলেন দুদক কর্মকর্তারা। তাদের তথ্য দেওয়া হয়েছে। সিডিএর অবহেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শর্ত লঙ্ঘন করায় তাদের একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়। জায়গাটির বিপরীতে ব্যাংক ঋণ রয়েছে। তাই চাইলেও বরাদ্দ বাতিল করা যাচ্ছে না। বিষয়টি যখন আমাদের নজরে এসেছে, আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’
সিডিএ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২৪ আগস্ট সিডিএর তৎকালীন সচিব গাজী মোহাম্মদ নুরুল কবীর স্বাক্ষরিত এক বরাদ্দপত্রে সাতটি শর্তে ৬৭ দশমিক ৬১ কাঠার দুটি প্লট প্রতিষ্ঠানটিকে ৯৯ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। বরাদ্দপত্রের ৭ নম্বর শর্তে উল্লেখ রয়েছে, ‘ইজারা গ্রহীতা প্লটটি শুধু বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক নির্মাণের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারবেন। বরাদ্দ দেওয়ার দুই বছরের মধ্যে আইন অনুযায়ী ইমরাত নির্মাণ করতে হবে। সিডিএর অনুমোদন ছাড়া ইজারা গ্রহীতা জমিতে কোনো নির্মাণকাজ করতে পারবেন না।’
এর আগে একই বছরের ১৫ জুলাই সিডিএতে অঙ্গীকারনামা জমা দেন হাসান আবাসন প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ হাসান। তাতে তিনি অঙ্গীকার করেন, ‘সিডিএর অনুমোদন ছাড়া তিনি কোনো নির্মাণকাজ করবেন না। পাশাপাশি সিডিএর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করবেন।’ দুটি প্লটের মধ্যে ৩৪ দশমিক ২৫ কাঠার একটি প্লট বন্ধক রেখে জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য ২০২০ সালের ২৬ আগস্ট সিডিএর কাছ থেকে ছাড়পত্র নেন আবদুল্লাহ হাসান।
আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর ও ১৫ নম্বর সড়কের কর্নারে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের জন্য নির্ধারিত প্লটটিতে সরেজমিন দেখা যায়, প্লটটির একাংশে টিনের একটি শেড রয়েছে। অন্য পাশে একটি সুপারশপ, একটি কার ওয়াশ, একটি জুসবার, একটি খাবার দোকান ও একটি প্লাস্টিকের কৃত্রিম ঘাসের (টার্ফ) ফুটবল মাঠ রয়েছে। বাকি জায়গা খালি পড়ে আছে। বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য কোনো অনুমোদন নেননি বলে জানিয়েছেন সিডিএর কর্মকর্তারা।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
