আদালতের রায় উপেক্ষা করে শ্মশানের জলাশয় দখলের অভিযোগ
২০১৬ সালে জিল্লুর রহমান পুকুরের দক্ষিণে ৩৭ শতক জলাশয়ের অর্ধেক নিজের দাবি করে জবরদখল করেছেন। ছবি: সমকাল
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৫ | ২২:১৫
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় আদালতের রায় উপেক্ষা করে শ্মশানের জলাশয় দখলের অভিযোগ উঠেছে। এতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
উপজেলার পানলা গ্রামে কুসুম্বী, সুদিন গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মৃতদেহ সৎকারের জন্য ব্যবহৃত ৮৮ শতক জমি নিয়ে শ্মশান রয়েছে। সেখানে কালী মন্দির, মৃতদেহ সৎকারের চিতা ও একটি জলাশয় রয়েছে। জলাশয়টি সৎকারের কাজে ব্যবহার করা হয়।
২০১৬ সালে জিল্লুর রহমান পুকুরের দক্ষিণে ৩৭ শতক জলাশয়ের অর্ধেক নিজের দাবি করে জবরদখল করেছেন। এ নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে জিল্লুর রহমানের বিরোধ বাধে। জিল্লুর রহমান জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও শ্মশান কমিটির সভাপতি সনাতন চন্দ্র প্রামানিকসহ ৬ জনের নামে জেলা জজ আদালতে মামলা করেন।
আদালত ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি শুনানি করে সিএসসহ প্রয়োজনীয় কাগজ এবং সবশেষ হালনাগাদ সংযুক্ত না থাকায় মামলাটি খারিজের আদেশ দেন। এরপরও জিল্লুর রহমান জলাশয়ের অর্ধেক অংশ দখল করে রাখেন। বাধ্য হয়ে বিবাদীদের পক্ষে বকুল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি আদালতে রিট পিটিশন করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নালিশি সম্পত্তির নামজারি বাতিল ও ৬০ কার্য দিবসের মধ্যে এ আদেশ বাস্তবায়নের জন্য জেলা কমিশনারকে আদেশ দেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে জিল্লুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জমিটি নিজের দাবি করেন। আদালতের রায়ের বিষয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত আনজুম অনন্যা জানান, বিষয়টি নিয়ে মামলা চলছে। আদালতের আদেশের কপি এখনও পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই কথা জানান শ্মশান কমিটির সভাপতি সনাতন চন্দ্র পরামানিক।