তারুণ্যের ফ্ল্যাশমবে ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগান
তিস্তা নদী রক্ষার আন্দোলনে ব্যতিক্রমী ফ্ল্যাশমবে লালমনিরহাটের তরুণ-তরুণীদের প্রদর্শনী। বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের চৌরাস্তায় সমকাল
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:২৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফ্ল্যাশমবের মধ্য দিয়ে তিস্তা নদী রক্ষার চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন লালমনিরহাটের কিশোর-তরুণরা। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনটি জায়গায় ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ শিরোনামের এ কর্মসূচির আয়োজন করে তরুণদের সংগঠন ‘জেন-জি লালমনিরহাট’। নাচ, নাট্যাভিনয় ও প্রতীকী প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা তিস্তা নদীভাঙনের চিত্র ফুটিয়ে তোলেন। পাশাপাশি তিস্তাপাড়ের সংস্কৃতি ও জীবনশৈলী উঠে আসে তাদের প্রদর্শনীতে।
মহেন্দ্রনগর, মোস্তফিরহাট ও বড়বাড়ী এলাকার ফ্ল্যাশমবে অংশ নেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ঝংকার যুব সাংস্কৃতিক সংগঠন ও অদম্য যুব সংগঠনের সদস্যরা। এদিন বেলা ১১টায় সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের চৌরাস্তা এলাকায় ফ্ল্যাশমবের উদ্বোধন করেন তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদরের গোকুন্ডা ইউনিয়নের মোস্তফিরহাট এলাকায় দ্বিতীয় ও দুপুর দেড়টার দিকে বড়বাড়ী ইউনিয়নের শিমুলতলায় তৃতীয় ফ্ল্যাশমব অনুষ্ঠিত হয়।
ঝংকার যুব সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শিবসুন্দর বর্মণের ভাষ্য, তারা তিস্তাপাড়ের মানুষের সুখ-দুঃখ ফুটিয়ে তুলতে ১৫ মিনিটের নাটক ও নাচের কোরিওগ্রাফি সাজিয়েছিলেন। বিপুলসংখ্যক মানুষ এতে একাত্ম হয়েছেন উল্লেখ করে সংগঠনের অপর সদস্য সৌরভ সাহা বলেন, ফ্ল্যাশমবের সময় হাজারো কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও’ স্লোগান।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অদম্য যুব সংগঠনের ফারুক ইসলাম, মোমেনা খাতুন সাথী, পূর্ণতা দাস সৃজা হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে অনুপ্রাণিত। তাদের ফ্ল্যাশমব সার্থক হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
দর্শক সারিতে ছিলেন লালমনিরহাট সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মাহবুব রহমান। তিনি তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের এই ব্যতিক্রমী আয়োজনে মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, যখন আন্দোলনে তরুণ-তরুণীরা যুক্ত হয়, তখন সে আন্দোলনের বিজয় নিশ্চিত।
জেন-জি লালমনিরহাটের আহ্বায়ক পদে আছেন লালমনিরহাট আদর্শ ডিগ্রি কলেজের বিবিএ চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শহীদ ইসলাম সুজন। তারা তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনে এ পর্যন্ত চারটি ফ্ল্যাশমব করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তিস্তা নিয়ে অনেকেই আন্দোলন করছেন। তবে তাদের ব্যতিক্রমী এ উপস্থাপন তিস্তাপাড়ের সাধারণ মানুষের মাঝে সাড়া ফেলেছে। গতানুগতিক আন্দোলনের বাইরে কিছু করার অংশ হিসেবেই তাদের এই প্রচেষ্টা।
তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয়। এটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে সংসদ সদস্য পদে মনোনীত এই রাজনীতিক বলেন, তাদের আন্দোলনে দল-মত নির্বিশেষ সবাই অংশগ্রহণ করছেন। জেন-জির ফ্ল্যাশমব এ আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
- বিষয় :
- তারুণ্য
