‘চলো জি ভাই হাঁরঘে পদ্মা বাঁচাই’ স্লোগানে মুখরিত ভোলাহাট
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপির পদ্মা বাঁচাও আন্দোলনের চতুর্থ জনসভায় শুক্রবার ভোলাহাট মোহবুল্লাহ কলেজ মাঠে উপস্থিত দলের নেতাকর্মীরা সমকাল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফারাক্কা বাঁধের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশকে বাঁচাতে জেলায় বিএনপির চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ভোলাহাটে ‘চলো জি ভাই, হাঁরঘে পদ্মা বাঁচাই’ স্লোগানে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলায় পদ্মা বাঁচাও আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এটি ছিল বিএনপির চতুর্থ সমাবেশ।
শুক্রবার বিকেলে ভোলাহাট মোহবুল্লাহ কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বক্তারা ভারতের ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণে বাংলাদেশে এর নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরেন। সমাবেশ উপলক্ষে এদিন দুপুর থেকেই নেতাকর্মীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে মাঠে উপস্থিত হন। কৃষক দলের নেতাকর্মীরা ধানের শীষের গুচ্ছ, কাস্তে, মাথল ও জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের (ভোলাহাট-নাচোল-গোমস্তাপুর) সাবেক সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর উপজেলা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন দলটির অন্য উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া।
হারুনুর রশিদ বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান সমস্যা মরণফাঁদ ফারাক্কা। ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণ এবং ভারত একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের কারণে পদ্মার অববাহিকার নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। পানি বণ্টন চুক্তি করেও আমরা এক ফোঁটা পানি পাইনি। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পানি সংকট নিরসনের জন্য গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ করার জন্য প্রকল্প নিয়েছিলেন। তাঁর সে স্বপ্ন আজও বাস্তবায়ন করতে পারি নাই। ২০০৫ সালে খালেদা জিয়ার আন্তরিক প্রচেষ্টায় একনেক থেকে গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন হয়। ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প অনুমোদনের পর সেটির সমীক্ষাও জমা হযেছিল। তারপর ক্ষমতা এসেছিল ভারতের দালাল ও গোলাম শেখ হাসিনার সরকার। যার কারণে সেই সমীক্ষাটি চলে গেছে ডিপ ফ্রিজে। সে কারণে ভারত শুধু ফারাক্কার পানি নয়, বাংলাদেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানিও প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। বাংলাদেশ সীমান্তে তারা একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কিন্তু ভারত সব সময় বাংলাদেশকে নতজানু দেখতে চায়।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরও বলেন, ফারাক্কা ব্যারাজ থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দূরত্ব মাত্র ১৬ কিলোমিটার হওয়ায় সরাসরি আমার এলাকার জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে আমরা মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছি আর বন্যার সময় নদীভাঙনসহ ও কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। নদী ভাঙন ঠেকাতে অতীতে বিএনপি সরকার ২০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করেছে। যার কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ভাঙন থেকে রক্ষা পেয়েছে। আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে, যা বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বাস্তবায়ন করা হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্য উপদেষ্টা অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া বলেন, শুষ্ক মৌসুমে ভারত অন্যায়ভাবে পানি বন্ধ করে আমাদের এই এলাকা মরুভূমিতে পরিণত করছে, ফসলহানি ঘটছে। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে আকস্মিক পানি ছেড়ে দিয়ে আমাদের কৃষকদের কষ্টের ফসল ডুবিয়ে নষ্ট করে দিচ্ছে। তাই ফারাক্কার মরণফাঁদ থেকে রক্ষা পেতে আমাদের জনমত গঠন করতে হবে। জনমত গঠন করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আমরা নির্বাচিত হলে এবং বিএনপি সরকার গঠন করলে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বুঝিয়ে তাঁর মাধ্যমে ভারতের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করব।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, এটি শুধু একটি রাজনৈতিক সভা নয়। এটি একটি পদ্মা নদীর তীরবর্তী মানুষের জীবন রক্ষার জন্য সচেতনতামূলক সভা। পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়ন করতে হলে
আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে জেলার সবাইকে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে আন্দোলনে যোগ দিতে হবে। তাহলেই আমরা উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলার ১৭টি নদীকে বাঁচাতে পারব।
এর আগে গত বুধবার ‘চলো জি ভাই হাঁরঘে পদ্মা বাঁচাই’ স্লোগানে শিবগঞ্জ সরকারি মডেল স্কুল প্রাঙ্গণে এবং পরদিন বৃহস্পতিবার নাচোল ডাকবাংলো মাঠে সমাবেশ করে বিএনপি। ১০ নভেম্বর সদর উপজেলার পৌরসভা মাঠে এবং ১৫ নভেম্বর নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ দুটি জনসভার মধ্য দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপির পদ্মা বাঁচাও কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায় শেষ হবে। নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠের সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এ জনসভায় রাজশাহী বিভাগে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
- বিষয় :
- পদ্মা
