ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নোটিশ ছাড়াই প্রাথমিকের ৬৩ শিক্ষকের বেতন বন্ধ

নোটিশ ছাড়াই প্রাথমিকের ৬৩ শিক্ষকের বেতন বন্ধ
×

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৫ | ০৮:০০

| প্রিন্ট সংস্করণ

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৩ সহকারী শিক্ষকের বেতন হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বেতন বন্ধের বিষয়ে জানতে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে গেলে সেখানে দায়িত্বে থাকা অডিটর মেহেদী হাসান শরীফ শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষকরা দাবি করেছেন, ওই কর্মকর্তা তাদের গালাগাল করেন এবং অফিসে প্রবেশের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা জানান, ২০০৮ ও ২০০৯ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত এসব সহকারী শিক্ষক ১০ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা পান। ২০১৮ ও ২০১৯ সাল থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাদের প্রথম উচ্চতর গ্রেড দেন। দীর্ঘদিন ধরে সেই সুবিধা ভোগ করলেও গত অক্টোবর মাস থেকে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তাদের বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের ২০ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি পরিপত্রের আলোকে মুন্সীগঞ্জ হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর মেহেদী হাসান শরীফ ২০১৮ ও ২০১৯ সালে নিয়োগ পাওয়া ৬৩ শিক্ষকের উচ্চতর গ্রেড বাতিল হতে পারে বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে জানান। এরপর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিসকে বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। এমনকি নোটিশ দেওয়া হয়নি।
সদরের নৈরপুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা হঠাৎ দেখি বেতন বন্ধ। বিষয়টি জানতে শিক্ষা অফিসে গেলে বলা হয় জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের নির্দেশ এসেছে। কিন্তু সেই চিঠি কেউ আমাদের দেখাতে পারেননি।’
শিক্ষক খালেদা আক্তার বলেন, ‘আমরা তো রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা, আমাদের সঙ্গে এমন ব্যবহার কষ্টদায়ক।’ তিনি জানান, শিক্ষকরা গত বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক ফাতেমা তুল জান্নাত বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। শিক্ষকদের দাবি, কোনো ভুল থাকলে তা যাচাই করে সংশোধন করা হোক, কিন্তু একযোগে বেতন বন্ধ রাখা অযৌক্তিক ও অন্যায়।

জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের অডিট অফিসার মেহেদী হাসান শরীফের ভাষ্য, তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও গালাগাল করার দাবি মিথ্যা। বরং তারাই ২০-২৫ জন নিয়ে এসে হুমকি দিয়েছেন। তাদের বেতন আটকে রাখা হয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিসের চিঠির কারণে।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন মিঞা বলেন, জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ওই শিক্ষকদের বেতন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্রেড 
উন্নীতকরণ সমস্যায় তাদের বেতন আটকে গেছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। ১০-১৫ দিন সময় লাগবে। এরপর থেকে ওই শিক্ষকরা আগের গ্রেডে নিয়মিত বেতন পাবেন।

আরও পড়ুন

×